আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ নাটকীয় আকার নিচ্ছে। সরকার গঠন ঘিরে জোর টানাপোড়েনের মাঝেই এবার নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন এআইডিএমকে প্রধান পালানস্বামী। কোনও দলের নাম না করেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় “সরকার গঠন করতে চলা দল”-কে শুভেচ্ছা জানান। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা।


সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ুর ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল টিভিকে ১০৭টি আসন জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছতে পারেনি। ফলে জোট ও সমর্থনের অঙ্কই এখন রাজ্যের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


এই পরিস্থিতির মধ্যেই এক্সে পোস্ট করে এডাপ্পাড়ি কে পালানস্বামী লেখেন, “তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে চলা দলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।” যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট দলের নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমানে বিরোধী শিবিরে জোর গুঞ্জন যে বিজয় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে ফেলেছেন।


নির্বাচনের পর থেকেই কংগ্রেস প্রকাশ্যে বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সিপিএম এবং সিপিআইএম ও টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা এড়ানো এবং বিজেপির পরোক্ষ প্রভাব ঠেকানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। এই সমর্থনের ফলে বিজয়ের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


তবে এখনও পর্যন্ত ভিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ছোট দলগুলির সমর্থন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সরকার গঠনের লড়াই কার্যত শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক থ্রিলারে পরিণত হয়েছে।


রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে এআইডিএমকে-র  এক সাংসদের আগের মন্তব্য। তিনি দাবি করেছিলেন, “আমার নেতা মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” এই মন্তব্যের পর থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, পর্দার আড়ালে কি অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে? কেউ কেউ মনে করছেন, ডিএমকে বিরোধী শক্তির একাংশ এবং টিভিকে-র মধ্যে গোপন আলোচনা চলতে পারে।
এদিকে গত দু’দিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি একেবারে হাই-ভোল্টেজ নাটকের রূপ নিয়েছে। নিখোঁজ বিধায়ক, মন্ত্রিত্ব নিয়ে দর কষাকষি এবং গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠকের খবর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


সরকার গঠনের দাবি জানাতে ইতিমধ্যেই রাজভবনে একাধিকবার গিয়েছেন বিজয়। তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। সূত্রের খবর, সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর আগে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠতার আনুষ্ঠানিক প্রমাণ চেয়েছেন।

 

&t=136s
সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত টানটান। কে শেষ পর্যন্ত ফোর্ট সেন্ট জর্জে সরকার গড়বে, তা নিয়ে এখনও জারি রয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা।