আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সংসদে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ এক সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পেশ হতে চলেছে, যা সাধারণভাবে ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ নামে পরিচিত। এই বিলের মূল লক্ষ্য হল লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ পর্যন্ত করা হতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
বিলটি কার্যকর করতে ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ৮১ অফ দ্যা কন্সটিটিউশন অফ ইন্ডিয়া সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, লোকসভায় সর্বোচ্চ ৮১৫ জন সদস্য রাজ্যগুলির আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে সরাসরি নির্বাচিত হবেন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রতিনিধিত্বের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন—যার পদ্ধতি সংসদ আইন দ্বারা নির্ধারণ করবে।
এখানে “জনসংখ্যা” বলতে বোঝানো হয়েছে সেই জনগণনার তথ্য, যার প্রাসঙ্গিক পরিসংখ্যান সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে ২০১১ সালের গননার তথ্যই সর্বশেষ আছে, এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু এই সাংবিধানিক সংশোধনী বিলই নয়, পাশাপাশি একটি পৃথক ডিলিমিটেশন আইন এবং দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর এবং পদুচেরি এই তিনটি বিধানসভাযুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য একটি সক্ষমতামূলক বিলও একই দিনে লোকসভায় আনা হবে। এর উদ্দেশ্য হল ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী জনগণনা এবং তার ভিত্তিতে হওয়া ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কার্যকর করতে আরও বিলম্ব হতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতেই দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান উপলব্ধ জনগণনা তথ্য ব্যবহার করে সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে শুধু সাধারণ মহিলাদের নয়, তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতির মহিলাদের জন্যও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই বিল কার্যকর হলে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে নীতিনির্ধারণে মহিলাদের উপস্থিতি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ বিল শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং এটি ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংস্কারের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভবিষ্যতে দেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারে।















