ভারতে খুব শিগগিরই চালু হতে পারে প্লাস্টিকের নোট বা পলিমার ব্যাঙ্কনোট। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর ফের এই পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় হয়েছে আরবিআই। ক্রমবর্ধমান মুদ্রণ খরচ এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ছেঁড়া ও নোংরা নোট বাতিল হওয়ার কারণে নতুন এই উদ্যোগের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
2
8
খবর অনুযায়ী, আরবিআই খুব তাড়াতাড়ি একটি পাইলট প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে। ইতিমধ্যেই পাটনা এবং মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত শেষ দুই বোর্ড বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০ এবং ২০ মূল্যের নোটে এই পরীক্ষা চালানো হতে পারে, কারণ দৈনন্দিন ব্যবহারে এই ছোট মূল্যের নোটগুলি সবচেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
3
8
পলিমার ব্যাঙ্কনোট আসলে কী? সাধারণ কাগজের নোটের বদলে এগুলি তৈরি হয় বিশেষ ধরনের পাতলা ও নমনীয় প্লাস্টিক উপাদান দিয়ে। যদিও একে “প্লাস্টিক নোট” বলা হয়, কিন্তু এটি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতো শক্ত নয়। বরং কাগজের নোটের মতোই ভাঁজ করা যায় এবং সহজে ব্যবহার করা সম্ভব।
4
8
এই ধরনের নোটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর স্থায়িত্ব। পলিমার নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না, জল বা ময়লার প্রভাবেও দ্রুত নষ্ট হয় না। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি এতে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব, যেমন স্বচ্ছ উইন্ডো, বিশেষ হোলোগ্রাম এবং উন্নত সুরক্ষা কালি। এতে জাল নোট তৈরি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
5
8
আরবিআইয়ের আগ্রহের পিছনে রয়েছে দ্রুত বাড়তে থাকা নোট ছাপানোর খরচও। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশে নোট মুদ্রণের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৩৭২.৮ কোটি, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত নোট সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে। শুধু ২০২৪-২৫ সালেই প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন নোংরা ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাতিল করা হয়েছে।
6
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ খরচ কমতে পারে। অনেক দেশ ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে পলিমার নোট সফলভাবে চালু হয়েছে এবং সেগুলি জালিয়াতি কমাতেও সাহায্য করেছে।
7
8
তবে ভারত এই পথে প্রথমবার হাঁটছে না। ২০১২ সালেও পরীক্ষামূলকভাবে ১০-এর পলিমার নোট চালুর পরিকল্পনা হয়েছিল। কোচি, মাইসুরু, জয়পুর, ভুবনেশ্বর এবং শিমলার মতো পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প পরে আর এগোয়নি।
8
8
বর্তমানে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও ভারতে নগদের চাহিদা এখনও অত্যন্ত বেশি। ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে প্রচলিত মুদ্রার পরিমাণ রেকর্ড ৪২.৮৬ ট্রিলিয়নে পৌঁছেছে। তাই নগদের ব্যবহার আরও নিরাপদ, টেকসই এবং সাশ্রয়ী করতে পলিমার নোট ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।