১৯৯৭ সালকে আবহাওয়াবিদরা এখনও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো বছরের মধ্যে গণ্য করেন। সেই সময় আশঙ্কা ছিল, ভারতের বর্ষা বড় ধাক্কা খাবে।
2
10
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি খারাপ হয়নি। কারণ ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত প্রভাব—ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল ভারতের বর্ষাকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছিল।
3
10
কিন্তু ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করছেন আবহাওয়া বিশ্লেষকেরা। কারণ এবছর ভারত মহাসাগরে সেই ইতিবাচক সহায়তা এখনও দেখা যাচ্ছে না, অথচ প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে।
4
10
এল নিনো হল এমন একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে যায়। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার উপর পড়ে। ভারতে সাধারণত এল নিনোর কারণে বর্ষা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি, জলসংস্থান এবং খাদ্য উৎপাদনে।
5
10
১৯৯৭ সালে শক্তিশালী এল নিনো থাকা সত্ত্বেও ভারত বড় ধরনের বর্ষা বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছিল। কারণ তখন ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল ইতিবাচক অবস্থায় ছিল।
6
10
এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশ বেশি উষ্ণ হয় এবং পূর্বাংশ তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে, যা ভারতীয় উপমহাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
7
10
কিন্তু এবছর পরিস্থিতি অনেকটাই নিরপেক্ষ বা সমতল অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ ভারত মহাসাগর থেকে বর্ষাকে অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। অন্যদিকে এল নিনোর শক্তি ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং তার সর্বোচ্চ প্রভাব সেপ্টেম্বর নাগাদ দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
8
10
এই সময়টাই ভারতের কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বর মাসে বহু অঞ্চলে ধান-সহ বিভিন্ন খরিফ ফসল বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলে। যদি বর্ষায় ঘাটতি দেখা দেয় বা বৃষ্টির বণ্টনে বড় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব ফসল উৎপাদনে পড়তে পারে।
9
10
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস মানেই নিশ্চিত ফল নয়। বর্ষা নির্ভর করে একাধিক উপাদানের উপর—সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ, আঞ্চলিক জলবায়ু এবং অন্যান্য মৌসুমি প্রভাবের সমন্বয়ে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
10
10
এখন কৃষক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের নজর থাকবে—এল নিনো কতটা শক্তিশালী হয় এবং ভারতীয় বর্ষা সেই চ্যালেঞ্জ কতটা সামলাতে পারে।