আজকাল ওয়েবডেস্ক: সকালে বাড়িতে সিআইডি হানা। বিকেলে সোনারপুরে পৌঁছতেই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকারের বা়ডিতে যাওয়ার পথেই তাঁকে ঘিরে ধরে শুরু হয় বিক্ষোভ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের হাতে হেনস্থার শিকার হন অভিষেক। আর এই ঘটনা ঘিরেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের বাকি দলগুলিও।

 

এই প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে আজ। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। এমন একটি সংবেদনশীল পরিবেশে পুলিশের অনুপস্থিতি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত করছে।'

 

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে দেখা করতে সোনারপুরে যাওয়ার পর, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন বিরোধী নেতার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষার এই ইচ্ছাকৃত অভাব, বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতিরই প্রমাণ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্র সরকারের উচিত সমস্ত বিরোধী নেতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং এই ধরনের হামলা প্রতিরোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনওই কোনও ধরনের হিংসাকে সমর্থন বা বৈধতা দিতে পারে না।'

 

অন্য দিকে, বিজেপি মুখপাত্র দেবজিত সরকার বলেন, "এই ঘটনা গণতন্ত্রে কাঙ্খিত নয়। তবে কেন তাঁরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারও নানা কারণ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মানুষের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, ক্ষোভ প্রশমনের বদলে অভিষেক নানা বক্তব্য রেখেছিলেন। কখনও বলেছেন, 'হাত কেটে দেব', 'বাড়ি ঘেরাও করে রাখব', 'ডিজে বাজাব', আবার কখনও '৪ তারিখের পর কোন দিল্লীর বাবা বাঁচাতে আসে, দেখব' বলেছেন। আজ যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই তৃণমূলকর্মী। তাঁরা এতদিন ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। তবে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এমন হওয়া উচিত নয়। এই ঘটনার এখনও প্রতিবাদ করছি, ভবিষ্যতেও করব। এই ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়।"

 

উল্লেখ্য, ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। বাইকে করে সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। ক্রিকেটের হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ তার পরেও এগোতে থাকেন। তখন তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যায় পুলিশ।

 

অভিষেক সোনারপুরে যাওয়ার আগেই কোথাও কোথা‌ও মহিলাদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না-গিয়ে বাইক নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।