আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুরাটে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য সামনে এল। নিজের স্ত্রী যখন গায়ে আগুন দিয়ে ছটফট করছেন, তখন তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে মোবাইলে সেই দৃশ্যের ভিডিও তুলছিলেন স্বামী! এই অভিযোগে ৩৩ বছর বয়সী রঞ্জিত সাহাকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া এবং নিষ্ঠুরতার মামলা করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম প্রতিমাদেবী (৩১)। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ জানুয়ারি সন্তানদের নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রঞ্জিত স্ত্রীকে তাচ্ছিল্য করে বলেন, ঘরে তেল আছে, সেটা ঢেলে যেন তিনি নিজেকে পুড়িয়ে মারেন। রাগের মাথায় প্রতিমাদেবী ঘরে থাকা ডিজেলে আগুন ধরিয়ে দেন। কিন্তু স্ত্রীকে জ্বলতে দেখেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি রঞ্জিত। বরং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সেই হাড়হিম করা ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করতে থাকেন তিনি।
হাসপাতালে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১১ জানুয়ারি মারা যান প্রতিমাদেবী। প্রথমে একে নিছক আত্মহত্যা মনে হলেও, মৃতার ভাইয়ের সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ইনস্পেক্টর এসি গোহিল জানান, রঞ্জিতের মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করতেই সেই ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিও দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই করেননি।
জানা গিয়েছে, বিহারের বাসিন্দা ওই দম্পতি ২০১৩ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। বছর তিনেক আগে তাঁরা কাজের সূত্রে সুরাটে আসেন। খবর অনুযায়ী, রঞ্জিত একটি গ্যারেজে কাজ করেন এবং মেঝে পরিষ্কারের জন্য তিনি বাড়িতে ডিজেল এনে রেখেছিলেন। আপাতত পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন ওই ব্যক্তি। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।
অন্যদিকে কিছুদিন আগেই বিহারে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ডিভোর্স না দিয়েই তিন বছরে তিনটি বিয়ে। ‘সিরিয়াল ম্যারেজ’ বা ধারাবাহিক বিয়ের এক অদ্ভুত কীর্তি ফাঁস হতেই চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রথম দুই স্ত্রীর যৌথ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবক পিন্টু বার্নওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে খুশবু কুমারীর সঙ্গে পিন্টুর প্রথম বিয়ে হয়। খুশবুর দাবি, বিয়ের সময় পণ হিসেবে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও গয়না দেওয়া হয়েছিল পিন্টুকে। তবুও ক্রমাগত পণের দাবিতে তাঁর ওপর চলত অকথ্য অত্যাচার। জানা গিয়েছে, শেষমেশ তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুকাল পরেই খুশবু জানতে পারেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে পিন্টু দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বিচ্ছেদ ছাড়াই সেরে ফেলেছেন তৃতীয় বিয়েটিও।
প্রতারিত হয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া কুমারীও। তাঁর অভিযোগ, পিন্টুর আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে তাঁকে বিয়ে করা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য তাঁর ওপরও নির্যাতন শুরু হয় বলে গুড়িয়ার দাবি।
পুলিশি হেফাজতে অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিন্টু। তাঁর যুক্তি, অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের দেখভালের জন্যই তিনি আবার বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন। পিন্টুর উল্টো দাবি, আগের দুই স্ত্রীর কেউই ঘরের কাজ করতে চাইতেন না। এমনকী প্রথম স্ত্রী তাঁকে খুনের চেষ্টাও করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন।
বর্তমানে পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে পিন্টুকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জেরা করা হচ্ছে৷ তাঁর তৃতীয় স্ত্রী এখন পিন্টুর বাড়িতেই রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। দুই স্ত্রীরই দাবি, পিন্টুর মতো মানুষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আপাতত সমস্ত দিক খতিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ৷
