ক্যানসার এমন এক রোগ, যার নাম শুনলেই মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করে। সমাজে এই রোগের প্রকোপ ব্যাপক, আর সেই কারণেই ক্যানসার প্রতিরোধ বা রোগ ধরা পড়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মানুষ নানা উপায় খোঁজেন। এরই মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হল, চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি থামানো সম্ভব।
2
10
কিন্তু এই ধারণাকে স্পষ্টভাবে ভুল বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিশিষ্ট অনকোলজিস্ট ডা. জয়েশ শর্মা। প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই চিকিৎসক ১৬ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, কেবল চিনি বাদ দিলেই ক্যানসার থামে না।
3
10
ক্যানসার কোষের গায়ে অতিরিক্ত রিসেপ্টর থাকে, যার সাহায্যে তারা শরীর থেকে চিনি শোষণ করে নিতে পারে। শরীরে ক্যালোরি বা শক্তির ঘাটতি তৈরি হলে, রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে শরীর নিজেই প্রোটিন ও চর্বি ভাঙতে শুরু করে। ফলে ক্যানসার কোষ তাদের প্রয়োজনীয় শক্তি ঠিকই পেয়ে যায়।
4
10
অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। ইনসুলিন এমন একটি হরমোন, যা কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সাহায্য করে। ফলে এটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিকেও পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়।
5
10
পেটের চর্বি বা ভিসেরাল ফ্যাট শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। এই প্রদাহ বহু রোগের মূল কারণ এবং ক্যানসারের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঠান্ডা পানীয় ও প্যাকেটজাত জুসে থাকা তরল চিনি লিভারে বিশেষ ধরনের চর্বি জমাতে সাহায্য করে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিকে সহায়তা করে বলে জানান ডা. শর্মা।
6
10
চিনি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। শরীরের দৈনিক প্রয়োজনীয় মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম যেন অতিরিক্ত চিনি থেকে আসে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়ের জন্য দিনে সাত থেকে আট চা-চামচ চিনি গ্রহণযোগ্য, তবে পাঁচ থেকে ছ’চা-চামচ হলে আরও ভাল।
7
10
ফলমূলের মতো ফাইবারযুক্ত খাবারের সঙ্গে চিনি খাওয়া উচিত। ফাইবার চিনি শোষণের গতি কমায়, ফলে ইনসুলিন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
8
10
তরল চিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা দরকার। চা খেলেও চিনি এক চা-চামচের কম রাখা উচিত। ডা. শর্মার মতে, একটি কোল্ড ড্রিঙ্কের ক্যানেই থাকে আট থেকে দশ চা-চামচ চিনি। এমনকি শিশুদের গ্রোথ পাউডারেও ৩০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে, তাই কেনার আগে লেবেল ভাল করে পড়া জরুরি।
9
10
খালি পেটে শুধুমাত্র চিনি খাওয়া উচিত নয়। কিছু খাওয়ার পর মিষ্টি খেলে ইনসুলিনের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে। মাঝে মাঝে চিনি দেওয়া চা খাওয়া ক্ষতিকর নয়, কিন্তু সকালে বিস্কুটের পুরো প্যাকেটের সঙ্গে মিষ্টি চা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
10
10
সবশেষে ডা. শর্মা স্পষ্ট করে বলেন, ক্যানসার ধরা পড়ার পর শুধু চিনি নিয়ন্ত্রণ করলেই রোগ জয় করা যায় না। সঠিক চিকিৎসাই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আসল অস্ত্র।