আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুম্বই পুরসভার নির্বাচনে বিজেপি–শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) জোটের জয় থ্যাকারে পরিবারের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্বের অবসান ঘটাল। এশিয়ার সবচেয়ে ধনী পুরসভা হিসেবে পরিচিত বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-এ এই ফলের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর মুম্বই একজন বিজেপি–শিবসেনা (শিন্ডে) জোটের মেয়র পেতে চলেছে।

এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস কার্যত ‘ম্যান অব দ্য মোমেন্ট’ হয়ে উঠেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি ২০১৭ সালের ৮২ আসনের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাপিয়ে এবার ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ৯০টিতে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে। জোটসঙ্গী শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) এগিয়ে রয়েছে ২৮টি আসনে। সব মিলিয়ে জোট অনায়াসেই ১১৪ আসনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে।

তবে এই সাফল্যের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক অন্য বাস্তবতা। মুখ্যমন্ত্রীর উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে শিবসেনার ঐতিহ্যগত ঘাঁটি মুম্বইয়ে নিজের ভিত্তি ধরে রাখতে যে বেশ লড়াই করছেন, তা এই ফলাফলে পরিষ্কার। ২০১৭ সালে অবিভক্ত শিবসেনার নির্বাচিত ৮৪ জন কর্পোরেটরের বড় অংশ শিন্ডের সঙ্গে থাকলেও, তাঁর গোষ্ঠী এবার কোনওক্রমে ৩০টির একটু বেশি আসনে পৌঁছতে পেরেছে।

নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় একনাথ শিন্ডে দেবেন্দ্র ফড়ণবীস ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, এই ফল ‘উন্নয়নের পক্ষে’ এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে’ মানুষের স্পষ্ট রায়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গত সাড়ে তিন বছরে মহাযুতির সরকার পরিচালনার উপরও এই রায় ইতিবাচক সিলমোহর দিয়েছে। তবে নতুন মেয়র বিজেপি না শিবসেনা, এই প্রশ্ন এড়িয়ে শিন্ডে শুধু বলেন, “মেয়র হবেন মহাযুতিরই কেউ।”

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এখনও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রেখেছে। দলটি অন্তত ৬৩টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, যদিও এটি ২০১৭ সালের ৮৪ আসনের তুলনায় স্পষ্ট পতন। তবু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক হারানো এবং সংগঠনের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পরও ঠাকরের  উত্তরাধিকার যে পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, এই ফলাফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নীতীশ রানে দাবি করেছেন, মুম্বই পুরভোটে বিজেপি–শিবসেনার শক্তিশালী ফল আসলে নির্বাচনী প্রচারে তোলা হিন্দুত্বের পক্ষে স্পষ্ট জনমত। ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি হিন্দিতে লেখেন, “যে হিন্দুদের  কথা বলবে, সেই মহারাষ্ট্র শাসন করবে,” এবং তার সঙ্গে যোগ করেন “জয় শ্রী রাম”। তাঁর এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ভোটগণনার মধ্যেই বিজেপি ও তার শরিকরা ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১৪টির বেশি আসনে এগিয়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।

সব মিলিয়ে, BMC নির্বাচনের ফল শুধু মুম্বইয়ের প্রশাসনিক ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বদলেরও একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।