আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছেলের মৃত্যুর পর গ্র্যাচুইটির টাকা হাতানো আর রেলের চাকরি নিয়ে চরম বিবাদ। এর জেরে বৌমাকে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ শাশুড়ির বিরুদ্ধে। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের থানের কল্যাণ এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম রূপালি বিলাস গাঙ্গুরদে (৩৫)। এই ঘটনায় তাঁর অভিযুক্ত শাশুড়ি লতাবাই এবং তাঁর এক সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত বছরের প্রথম দিনে। ১ জানুয়ারি কল্যাণের বালধুনি ব্রিজের কাছে এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে জানান। এর কিছু পরেই লতাবাই থানায় এসে দাবি করেন, তাঁর বৌমা নিখোঁজ। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি নিজেই দেহটি শনাক্ত করেন। কিন্তু তাঁর কথায় সন্দেহ হওয়ায় পুলিশি জেরা শুরু হতেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রূপালির স্বামী রেলের কর্মী ছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর গ্র্যাচুইটির প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন রূপালি। সেই টাকা নিজের কবজায় নিতে চেয়েছিলেন শাশুড়ি লতাবাই। শুধু তাই নয়, রেলের চাকরি নিয়েও দু’জনের মধ্যে গোলমাল চলছিল। লতাবাই চেয়েছিলেন তাঁর ১৫ বছরের নাতি ওই চাকরি পাক, কিন্তু রূপালি নিজেই চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, টাকা আর চাকরির লোভেই বন্ধু জগদীশ মাত্রেকে নিয়ে বৌমাকে খুনের ছক কষেন লতাবাই। গত রাতে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রূপালিকে খুন করে তারা। এরপর রক্তের দাগ মুছে, জামাকাপড় বদলে দেহটি ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে আসা হয়। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে লতাবাই নিজেই নিখোঁজ হওয়ার নাটক ফেঁদেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দু’জনকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা৷ বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এসে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। তাঁর মা-ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি এই ঘটনা ঘিরে হুলুস্থুল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুরজ শিবান্না (৩৬)। পুলিশ সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরুতে সুরজের স্ত্রী গানভি (২৬) আত্মঘাতী হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নাগপুরের একটি হোটেলে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সুরজকে। গানভির মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সুরজের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বিয়ে হয়েছিল এই যুগলের। মধুচন্দ্রিমার জন্য তাঁরা শ্রীলঙ্কায় গেলেও বিবাদের জেরে মাঝপথেই ফিরে আসেন। গানভির পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে চূড়ান্ত অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল তাঁদের মেয়েকে। সেই কারণেই তাঁরা গানভিকে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু এর কিছুদিন পর গানভি বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরেই সুরজ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয় মেয়েটির পরিবার। এমনকী সুরজের বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা।
চাপ সামলাতে না পেরে গত শুক্রবার মা জয়ন্তীকে নিয়ে বেঙ্গালুরু ছেড়ে নাগপুরে চলে আসেন সুরজ। জানা গিয়েছে, সেখানকার ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা। শনিবার সুরজের ভাই সঞ্জয় শিবান্না পুলিশকে ফোন করে দাদা ও মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানান। পুলিশ এসে সুরজের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। জয়ন্তীদেবীকে সঙ্কটজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷
