আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিতাবাঘের হানায় প্রাণ হারালেন এক কৃষক। কুয়োয় পড়ে মৃত্যু হল চিতাবাঘটিরও। রবিবার দুপুরে নাসিকের সিন্নার তালুকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত কৃষকের নাম গোরক্ষ যাদব।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শিবদে এলাকায় নিজের গমের ক্ষেতে জল দিয়ে দুপুরে খেতে বসেছিলেন গোরক্ষবাবু। সেই সময় একটি চিতাবাঘ আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয়। বাঁচার জন্য বাঘটির সঙ্গে লড়াই শুরু করেন তিনি। ধস্তাধস্তি চলাকালীন দু’জনেই পাশের একটি কুয়োর মধ্যে পড়ে যান।
খবর পেয়ে বন দপ্তর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর গ্রামবাসীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে। জানা গিয়েছে, কৃষকের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ জনতা কিছুতেই বাঘটিকে উদ্ধার করতে দিচ্ছিল না। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই অচলাবস্থা চলার পর কুয়োর ভেতরেই বাঘটির মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জনতা বাধা দেওয়ায় কুয়োয় খাঁচা নামানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ কুয়োর জলে পড়ে থাকায় এবং আঘাতের কারণেই বাঘটি মারা গিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। পরে কৃষকের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় এবং সরকারি নিয়ম মেনে বাঘটির দেহ সরিয়ে নিয়ে যায় বন দপ্তর।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলায় নরখাদক নেকড়ের দাপট থামার নাম নেই। সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম মাঝারা তৌকলি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রসুলপুর দারেহতা। সেই গ্রামে ফের এক মর্মান্তিক কাণ্ড। সোমবার ভোরে বাড়ির বারান্দায় বসে কোলের ছেলেকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন এক মহিলা। সেই সময় তাঁর কোল থেকে তিন বছরের শিশুকে ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নিয়ে পালায় একটি নেকড়ে। মা পিছু ধাওয়া করেও সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি। কয়েক ঘণ্টা পর গ্রাম থেকে দূরে শিশুটির ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় সকলে ভীত সন্ত্রস্ত।
গ্রামবাসীরা জানান, রোজকার মতোই সকালে ছেলে অংশুকে নিয়ে দাওয়ায় বসেছিলেন নানকাই। তাঁর স্বামী রাম মনোহর কর্মসূত্রে পাঞ্জাবে থাকেন। ভোরে সেদিন ঘন কুয়াশা ছিল। আর সেই সুযোগ নিয়ে একটি নেকড়ে বাড়িতে ঢুকে নিমেষে শিশুটিকে মুখে করে পালায়। কুয়াশার কারণে মা কিছুটা দূর গিয়ে আর নেকড়েটিকে দেখতে পাননি। পরে বনকর্মী ও গ্রামবাসীরা তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত দেহ খুঁজে পান।
গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে বহরাইচ জেলায় নেকড়ের হানায় এই নিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হল, যার মধ্যে ১০ জনই শিশু। কাইজারগঞ্জ, বৌন্দি ও ফখরপুর এলাকার ডজনখানেক গ্রামে এখন বাঘের বদলে নেকড়ের ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে স্থানীয়দের। বন দপ্তরের দাবি, এর আগে ছয়টি ঘাতক নেকড়েকে মারা হলেও আতঙ্ক কাটেনি গ্রামবাসীদের। বাকি নেকড়েদের ধরতে তল্লাশি জারি রয়েছে।
জেলা বন আধিকারিক রাম সিং জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরের ক্ষত দেখে স্পষ্ট যে এটি নরখাদক নেকড়েরই কাজ। তাঁর মতে, আগে যেখানে হামলা হচ্ছিল, সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এই নতুন এলাকায় নেকড়েটি চলে এসেছে। জনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় কোনও আখ খেত নেই, যা দেখে বনকর্তাদের অনুমান, নেকড়েটি তার পুরনো এলাকা বদলে নতুন ডেরার খোঁজে গ্রামে ঢুকে পড়ছে।
