আজকাল ওয়েবডেস্ক: হস্টেলে নির্মম অত্যাচার, মারধর। কয়েক ঘণ্টা পরেই হস্টেলের ঘরে থেকে উদ্ধার ১২ বছরের ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। আগের রাতে মারধরের পরেই, গলায় ফাঁস দিয়ে ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছে বলেই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকালে লাতুরের নবোদয় বিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আউসা তালুকের তাকা এলাকার বাসিন্দা ছিল পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী। গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়েই পুলিশে খবর দেন হস্টেলের কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃত ছাত্রীর পরিবার পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছে, গত শনিবার রাতেই হস্টেলের কর্মীরা ছাত্রীকে মারধর করেছিলেন। ছাত্রীর হাতে ও মাথায় আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। শনিবার সকাল আটটা ছাত্রীর বাবাকে স্কুলের তরফে জানানো হয়, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শীঘ্রই পরিবারের সদস্যরা যেন স্কুলে আসেন। স্কুলে পৌঁছনোর পর পরিবারকে জানানো হয়, ছাত্রী মারা গেছে। আগের রাতে হস্টেলে নির্যাতনের বিষয়টি মৃত ছাত্রীর সহপাঠীরাই পরিবারকে জানিয়েছে।
গত বছর অক্টোবরে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। পড়াশোনার অত্যধিক চাপে জেরবার। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। দুইয়ের জেরে চরম পদক্ষেপ নেন ১৭ বছরের এক ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার্থী। বাবা, মাকে চিঠি লিখে আত্মঘাতী হয়েছিলেন ছাত্রী। নিজের আবাসনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল নয়া দিল্লির জামিয়া নগর এলাকায়। ওই এলাকার শাহীন বাগের ওখলা মার্কেটের মাঝেই আত্মঘাতী হন ১৭ বছরের কিশোরী। শনিবার পুলিশ সূত্রে খবর, সাততলা আবাসনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন কিশোরী। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সদ্য দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার পরেই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী। কিন্তু পড়াশোনার অত্যধিক চাপ সামলাতে পারছিলেন না। অতীতে একাধিকবার মা'কে জানিয়েছিলেন, পরীক্ষায় পাশ না করলে জীবন শেষ পর্যন্ত করতে পারেন। অবশেষে চরম পদক্ষেপ নেন তিনি।
কিশোরীর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। যেখানে কিশোরী জানিয়েছিলেন, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিনি পাশ করতে পারেননি। চাপ সামলাতে না পেরে, পরিবারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আত্মঘাতী হন তিনি। চিঠিতে লেখা ছিল, 'আমি পরীক্ষায় পাশ করিনি। তাই ক্ষমা করো।' এদিকে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে কিশোরীর আত্মহত্যার মুহূর্তটি ধরা পড়ে। যা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
