আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিত্যদিন ঝগড়া আর হেনস্থা। পথের কাঁটা স্বামীকে দুনিয়া থেকে গায়েব করতে প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা। শেষমেশ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই স্বামীকে নির্মমভাবে খুন করলেন স্ত্রী। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, গুন্তুর জেলায় চিলুভুরু এলাকায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী ও প্রেমিকের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন গৃহবধূ। সেই খাবার খেয়ে স্বামী অচৈতন্য হতেই, প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে তাঁকে খুন করেন স্ত্রী। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রথমে দুই অভিযুক্ত জানিয়েছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে নেমে আসল ঘটনা ফাঁস হয় পুলিশের কাছে। ১৮ জানুয়ারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী লোকাম শিবা নাগারাজুর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী মাধুরি আত্মীয়দের জানিয়েছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। 

দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। রিপোর্টে জানা যায়, ব্যবসায়ীর একাধিক হাড় ভাঙা। জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ২০০৭ সালে নাগারাজু ও লক্ষ্মী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত কয়েক মাস ধরেই গোপী নামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন লক্ষ্মী। নিত্যদিন দাম্পত্য কলহ ও স্বামীর হেনস্থায় অতিষ্ঠ হয়েই, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি। 

গোপীর এক ডাক্তার বন্ধুর থেকে ওই ঘুমের ওষুধ নিয়ে এসেছিলেন লক্ষ্মী। এরপর খাবারের সঙ্গে সেই ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। খাবার খেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন নাগারাজু। এরপর গোপী ও বন্ধুকে বাড়িতে ডাকেন লক্ষ্মী। শ্বাসরোধ করে প্রথমে খুন করেন। এরপর লাঠি দিয়ে বুকে একাধিকবার আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডের সেরাইকেলা- খারসওয়ান জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীর সঙ্গে নিত্যদিন অশান্তি হত স্ত্রীর। সেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে ঘিরে স্বামীকে কুপিয়ে খুন করেন ২৯ বছরের তরুণী। 

জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম, পূজা কুমারী। গত ১৫ জুলাই রাতে পাশাপাশি স্বামী, স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থাতেই রাজেশ কুমার মাহতা নামের যুবকের উপর কুড়ুল নিয়ে হামলা করেন পূজা। ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে একাধিকবার কুড়ুল দিয়ে কোপ মারেন। রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানাতেই রাজেশ কুমার মাহতার মৃত্যু হয়। 

পুলিশ আধিকারিক কুমার লুনায়েত জানিয়েছেন, স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা আগেই করেছিলেন পূজা। তবে সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ঘটনার দিন সন্তানদের অন্য ঘরে ঘুম পাড়িয়ে এসেছিলেন তিনি। রাজেশ খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে কুড়ুল নিয়ে রাজেশকে কোপ মারেন। 

রাজেশ মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতেই ঘরের দরজা পিছন থেকে বন্ধ করে বেরিয়ে যান পূজা। এরপর তিন সন্তানকে ঘুম থেকে তুলে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন সকাল থেকে গত কয়েকদিনে প্রতিবেশীরা তাঁদের কোনও সাড়াশব্দ পাননি। তাতেই সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দেন তাঁরা। রবিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।‌ বাড়ির দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় রাজেশের পচাগলা দেহ। 

ঘরের মধ্যেই ছিল রক্ত মাখা কুড়ুলটি। ঘরের ছন্নছাড়া অবস্থা দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয়। এদিকে প্রতিবেশীরা জানান, সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী পূজা পলাতক। খুনের সন্দেহ হতেই পুলিশ পূজার খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে আটক করে তাঁকে। দীর্ঘ পুলিশি জেরায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কাঁদতে কাঁদতেই জানান, স্বামীকে তিনি খুন করেছেন। 

পূজা আরও জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী, রাজেশ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অন্য এক তরুণীর সঙ্গে দিনের পর দিন কথা বলতেন ফোনে‌। প্রথমে সন্দেহ হলেও, পরে জানতে পারেন, সেই তরুণীর সঙ্গেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত স্বামী। অবশেষে তিনি খুনের পরিকল্পনা করেন। পূজাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে তারা। ঘটনার তদন্ত এখনও জারি রয়েছে। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি এবং রক্তের দাগ লাগা দু'টি স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।