আজকাল ওয়েবডেস্ক: পড়াশোনা বলতে বড়জোর দশম শ্রেণি পর্যন্ত। অথচ গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে আর হাতে সিরিঞ্জ নিয়ে দিব্যি ‘ডাক্তারি’ করছিলেন তিনি। গুজরাটের সুরাটে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এমনই এক ভুয়ো চিকিৎসক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম সঞ্জিত নীলকমল বিশ্বাস। বছর চল্লিশের ওই যুবক এ রাজ্যের নদিয়া জেলার বাসিন্দা।
সুরাটের শচীন থানা এলাকার একটি গ্রামে ‘আশা ক্লিনিক’ খুলে বসেছিলেন সঞ্জিত। সেখানে গিয়ে গ্রামবাসীরা চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, তাঁর কোনও ডাক্তারি ডিগ্রি তো দূরস্ত, ন্যূনতম প্রশিক্ষণও নেই। অথচ ওই ক্লিনিকে আসা রোগীদের দেদার কড়া কড়া অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ দিচ্ছিলেন তিনি, চলছিল ইঞ্জেকশন দেওয়াও।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শচীন থানার পুলিশ আচমকাই ওই ক্লিনিকে হানা দেয়। পুলিশ যখন সেখানে ঢোকে, তখন রোগী দেখতে ব্যস্ত ছিলেন ওই যুবক। হাতেনাতে ধরা পড়ে যান তিনি। তল্লাশি চালিয়ে ক্লিনিক থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ, সিরিঞ্জ, স্টেথোস্কোপ এবং ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম।
পুলিশের এক কর্তার কথায়, “ফার্মাকোলজি বা ওষুধের গুণাগুণ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না রেখে ইঞ্জেকশন দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটা রীতিমতো জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সমান।”
অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার অ্যাক্ট-এ মামলা রুজু করা হয়েছে। কত দিন ধরে এই অবৈধ ক্লিনিকটি চলছিল এবং কাদের থেকে তিনি এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ পেতেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মূলত শহর থেকে ‘হাতুড়ে’ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।
