আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেনি ভারত। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, পারস্য উপসাগরের এই রণক্ষেত্রে কোনও বিদেশি জোটে শামিল হওয়ার পরিকল্পনা আপাতত দিল্লির নেই। বরং কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে।
ঘটনার সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করছে- এই অভিযোগ তুলে ট্রাম্প ভারত, চিন, ফ্রান্স ও জাপানের মতো দেশগুলিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তারা যেন ওই এলাকায় নিজেদের রণতরী মোতায়েন করে। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন, এই বিষয়ে অন্য দেশগুলির মধ্যে চর্চা চললেও আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কোনও দ্বিপাক্ষিক কথা হয়নি।
আমেরিকা বা অন্য কোনও দেশের ওপর নির্ভর না করে ভারত সরাসরি ইরানের সঙ্গে কথা বলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। যেমন কাজ তেমন ফল। এই আলোচনার সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। গত শনিবারই ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নামে ভারতের দুটি এলপিজি কন্টেনার নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালী পার করেছে।
অন্যদিকে, ভারত কোনও বহুপাক্ষিক নৌ-জোটে যোগ না দিলেও, নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে পাহারা দিতে ভারতীয় নৌবাহিনী নিজস্ব রণতরী মোতায়েন রেখেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। তাই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতির বদলে ইরানকে আলাদা কোনও সুবিধা দিতে হয়নি ভারতকে। জয়সওয়ালের কথায়, “এটা কোনও লেনদেনের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন।”
পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও মুখ খুলেছে দিল্লি। ভারতের স্পষ্ট কথা- যুদ্ধ নয়, বরং সংযম এবং কূটনীতির মাধ্যমেই শান্তি ফেরানো প্রয়োজন। কোনও দেশের 'সার্বভৌমত্বে' আঘাত করা ভারতের কাম্য নয়।
