আজকাল ওয়েবডেস্ক: শবরীমালা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলাকালীন মুসলিম মহিলাদের মসজিদে প্রবেশের অধিকার নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (AIMPLB)। বোর্ডের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছে যে, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ পড়ার ওপর কোনও বিধিনিষেধ নেই। তবে মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে বা বসার জায়গার ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে যে বিভাজন বা পর্দার ব্যবস্থা থাকে, তা সরিয়ে ফেলার দাবি তাঁরা করতে পারবেন না।
বোর্ডের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এম. আর. শামশাদ আদালতকে জানান, ইসলাম একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ধর্ম যেখানে কোন কাজটি নিষিদ্ধ, কোনটি বাধ্যতামূলক আর কোনটি পছন্দনীয়—তা নিয়ে স্পষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ করা নিয়ে কোনও বিরোধ বা বিতর্ক নেই। মহানবী (সা.) নিজেই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মহিলাদের মসজিদে আসা থেকে আটকানো উচিত নয়। তবে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কিছু শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানতে চান, মহিলারা মসজিদে প্রবেশের পর জামাতে (দলবদ্ধ নামাজে) অংশ নিতে পারেন কি না। জবাবে আইনজীবী শামশাদ জানান, মহিলারা অবশ্যই জামাতের অংশ হতে পারেন এবং মসজিদে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই থাকে দলবদ্ধ নামাজে শামিল হওয়া। তবে পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক হলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক নয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, মহিলারা বাড়িতে নামাজ পড়লেই মসজিদের সমান 'সওয়াব' বা পুণ্য লাভ করেন, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়িতে নামাজ পড়াই অধিকতর পছন্দনীয়। তবে কোনও মহিলা যদি মসজিদে যেতে চান, তবে তাঁকে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ল বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও পরিষ্কার করে বলা হয় যে, যেহেতু মসজিদে কোনও গর্ভগৃহ নেই, তাই কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জন্য জেদ ধরতে পারেন না। ঠিক একইভাবে, মহিলারা মসজিদের প্রধান দরজা দিয়েই প্রবেশের দাবি করতে পারেন না যদি সেখানে মহিলাদের জন্য আলাদা প্রবেশের পথ নির্দিষ্ট করা থাকে। পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের জায়গার মাঝে যে ভৌত ব্যবধান বা প্রাচীর থাকে, তাও সরিয়ে ফেলার অধিকার কারও নেই।
বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন যে, ইসলামের শুরু থেকেই মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না এবং এটি নবীর আমল থেকেই চলে আসছে। তিনি হালকা ছলে মন্তব্য করেন যে, ঐতিহাসিকভাবে একটি কারণ হতে পারে এই যে—সবাই যদি মসজিদে চলে যায়, তবে বাড়িতে বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য কাউকে না কাউকে তো থাকতে হবে। সামগ্রিকভাবে, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে এটাই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে যে, মহিলাদের ধর্মীয় অধিকার ইসলামে স্বীকৃত, তবে তা ধর্মীয় অনুশাসন ও শৃঙ্খলার গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।















