আজকাল ওয়েবডেস্ক: বড় ধাক্কা খেল আম আদমি পার্টি (আপ)। শুক্রবার দল থেকে পদত্যাগ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক। যোগ দিলেন বিজেপিতে। সন্দীপ এবং অশোকের সঙ্গে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাঘব বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রাজ্যসভায় আপ-এর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে আমরা ভারতের সংবিধানের বিধান প্রয়োগ করে বিজেপির সঙ্গে মিশে যাব।” এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় আপের ১০ জন সাংসদ রয়েছেন। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ বিজেপি-তে চলে গেলে রাজ্যসভায় আপের তিন-চার জনের বেশি সাংসদ অবশিষ্ট থাকবেন না। সূত্রের দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাঘবকে মন্ত্রী করা হতে পারে।

রাঘব, অশোক এবং সন্দীপ ২০২২ থেকে আপের রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাঘব বলেন, “আম আদমি পার্টি, যাকে আমি আমার রক্ত দিয়ে লালন করেছি এবং যার জন্য আমার যৌবনের ১৫ বছর দিয়েছি, সে এখন তার নীতি, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে। দলটি আর দেশের জন্য কাজ করছে না, বরং ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছে।” 

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের মধ্যে অনেকেই গত কয়েক বছর ধরে আমাকে এই কথা বলে আসছেন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি যে আমি ভুল দলে সঠিক ব্যক্তি। আমি আবারও বলছি, ‘আমি ভুল দলে সঠিক ব্যক্তি।’ তাই, আজ আমি ঘোষণা করছি যে আমি আম আদমি পার্টি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি এবং জনগণের কাছে যাচ্ছি।”

শুক্রবার রাঘব ঘোষণা করেছেন, তিনি রাজ্যসভায় আপের এক বড় অংশের সাংসদদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেবেন। রাঘব জানিয়েছেন, উচ্চকক্ষে আপের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন। তিনি এও জানিয়েছেন, আপের জনপ্রিয় মুখদের মধ্যে হরভজন সিং এবং স্বাতী মালিওয়ালও বিজেপিতে যোগ দেবেন। এছাড়াও বিক্রমজিৎ সাহনে এবং রাজেন্দ্র গুপ্ত যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে।

সম্প্রতি আপ তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাঘব এবং আপের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা থেকে তাঁকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে দল। আপ দাবি করেছিল, তিনি দলীয় অবস্থান মেনে চলছিলেন না এবং তুলনামূলকভাবে ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ ইস্যু নিয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন।

২০১২ সালে আপ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আপের সঙ্গে ছিলেন এবং কেজরিওয়ালের একজন বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। যিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে ভর করে ২০১৫ সালে দিল্লিতে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছিলেন।