আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল দেশের বিশিষ্ট মুসলিমদের একটি প্রতিনি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী ভারত নিয়ে নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, একজন চিকিৎসক এবং একজন সাংবাদিক - এই ১৪ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধিন দলটি নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ভবনে ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ডোভাল প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অতিথিদের কথা 'ধৈর্যের সঙ্গে' শোনেন এবং এরপর নিজের দিকনির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের সামনে তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ জাফর সারেশওয়ালা, যিনি শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনএসএ-র সঙ্গে সাক্ষাৎকারী দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন -সংবাদ মাধ্যমে বলেন, "ডোভাল আমাদের প্রত্যেকের কথা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে শুনেছেন।" তিনি আরও জানান যে, ডোভাল দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বৈঠকে বলেন, "ভারত হল একটি জাহাজ; আমরা সবাই হয় একসঙ্গেই এগিয়ে যাব (সওয়ার হব), নয়তো একসঙ্গেই ডুবে যাব।"
এই বৈঠক প্রসঙ্গে সারেশওয়ালা বলেন, "সরকার আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, আর এটি একটি ইতিবাচক লক্ষণ।" তিনি আরও যোগ করেন, "বৈঠকে আমরা সবার জন্য একটি 'সম সুযোগের ক্ষেত্র' তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছি। আমরা বলেছি যে, মুসলিমদের প্রতি যেমন কোনও বৈষম্য করা উচিত নয়, তেমনি তাঁদের কোনও বিশেষ সুবিধাও দেওয়া উচিত নয়।"
সারেশওয়ালা বলেন, "এটি বিশেষ কিছুর কেবল শুরু মাত্র। ভবিষ্যতে আমরা এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখব।"
সারেশওয়ালা ছাড়াও ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী বিশিষ্ট মুসলিমদের মধ্যে ছিলেন কেপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফারুক প্যাটেল, জার্মান স্টিলের সিএমডি ইনামুলহক ইরাকি, জার্মান স্টিলের নির্বাহী পরিচালক ইবরারুলহক ইরাকি, নিটন ভালভসের সিইও জুনেদ শরিফ, জিএলএস সুইচগিয়ারের পরিচালক জাফর লারি, দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের নেতা জামাত আলতাফ সাদিকোট, আঞ্জুমান-ই-ইসলামের সভাপতি জহির কাজী, সমাজনেতা হাজী রায়মা এবং হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারপারসন কাউসার জাহান। পরিবেশকর্মী সাহের ভামলা, এইমস-এর চিকিৎসক নিশাত হোসেন, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন এবং সাংবাদিক সামিনা শেখও এই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। "এই বৈঠকটি একটি ইতিবাচক বার্তা দেয় যে, সরকারের ভেতরে এমন মানুষ আছেন যারা সংখ্যালঘুদের কথা শুনতে প্রস্তুত। নিয়মিত সংলাপ ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সাহায্য করে এবং তা অব্যাহত রাখা উচিত, কারণ এগুলো পারস্পরিক সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়তা করে," বলেন জাহির কাজী।
এনএসএ ডোভালের 'ধুরন্ধর চাল', বললেন প্রবীণ সাংবাদিক
"অজিত ডোভাল - বাস্তব জীবনের এক 'ধুরন্ধর' ব্যক্তিত্ব; নরেন্দ্র মোদির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ। গত ১৮ এপ্রিল, তিনি ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ১৪ জন বিশিষ্ট কৃতী ও নেতাকে সদ্য নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।" শুক্রবার 'এক্স' প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন প্রবীণ সাংবাদিক শীলা ভাট।
তিনি লিখেছেন, "মুসলিম নেতাদের সবাইকে অত্যন্ত যত্নসহকারে এবং সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচন করা হয়েছিল। এই ভারতীয় নাগরিকরা তথাকথিত 'ভোট-ব্যাঙ্ক রাজনীতির' অংশ হতে অস্বীকার করে, যেখানে একজনের ভোট কেবল কোনও একটি দলকে পরাজিত বা নির্বাচিত করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়।"
জাফর সারেশওয়ালা 'এক্স'-এ করা একটি পোস্টে ডোভালকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, "আমাদের মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য, ধৈর্য ধরে আমাদের কথা শোনার জন্য এবং জাতীয় অগ্রগতির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎমুখী দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।" তিনি এই আলাপচারিতাকে "অত্যন্ত চমৎকার একটি মতবিনিময়" এবং "এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ" হিসেবে অভিহিত করেন।
এই দলটি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের উদ্বেগ ও পরামর্শ ডোভালের সামনে তুলে ধরে।
স্বতন্ত্র সাংবাদিক সামিনা শেখ ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর 'এক্স'-এ নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, "একজন মুসলিম তরুণী হিসেবে আমি যখন সংবাদমাধ্যমের জগতেরই একজন অংশ এবং একজন স্বতন্ত্র সাংবাদিক হিসেবে নিজের প্রতিনিধিত্ব করি, তখন এটি তুলে ধরা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে—আমাদের শিক্ষা এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব সম্প্রদায় কীভাবে আমাদের পাশে দাঁড়ায় ও সহায়তা করে।"
সামিনা শেখ আরও বলেন, "যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনও বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে বড় করে তোলা হয় এবং মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়, তখন তা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে; এবং কীভাবে এই পরিস্থিতিকে কলুষমুক্ত বা স্বাভাবিক করা যায়—তা নিয়ে আমরা চিন্তিত থাকি," শেখ বলেন। তিনি জানান, ডোভাল "কেবল অত্যন্ত মনোযোগ ও খুঁটিনাটি বিষয়সহ আমাদের কথা শুনেছেন তাই নয়, বরং আমাদের উদ্বেগগুলোর সমাধানের পথও বাতলে দিয়েছেন।"
২০২৩ সালের জুলাই মাসে দোভাল বলেছিলেন যে, দেশের বিভিন্ন ধর্ম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে সহাবস্থান করে আসছে; তিনি আরও যোগ করেন যে, "ভারতে ইসলামের একটি অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।" তিনি বলেন, "এদেশের অসংখ্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর মাঝে ইসলাম এক অনন্য ও গর্বের স্থান অধিকার করে আছে, কেননা ভারত হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল।"
মুসলিম শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতা এবং পেশাজীবীদের সাথে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দোভালের সাম্প্রতিক বৈঠককে অংশগ্রহণকারীরা প্রশংসা করেছেন।















