আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধরে নিন আপনার পিরিয়ডস চলছে। পেটে-পিঠে অসহ্য ব্যথা, শরীর খারাপ। এমন সময় আপনি আপনার অফিসের ম্যানেজারকে সত্যি কথাটা লিখে বিশ্রামের জন্য আবেদন করলেন।

আপনি মনে মনে ভাবছেন, ম্যানেজার রাজি তো হবেনই না, উল্টে অফিসে অশান্তি আরও বাড়বে। কিন্তু আপনাকে অবার করে ম্যানেজার শুধু ছুটিই দিলেন না, উল্টে জানালেন, আপনার বেতন থেকে এই ক’টা দিনের পারিশ্রমিকও কাটা যাবে না।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মহিলা কর্মচারী তাঁর ঋতুকালীন অসুবিধার কথা জানিয়ে ছুটির আবেদন করেছিলেন তাঁর অফিসের ম্যানেজারের কাছে। সেই ম্যানেজার ছুটি মঞ্জুর তো করেছেনই এবং নিশ্চিত করেছেন পারিশ্রমিক কাটা যাবে না।

এই খবর নতুন করে চাঞ্চল্যের স্মৃষ্টি করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটি স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছে, মহিলা তাঁর ম্যানেজারকে মেসেজ করে অনুরোধ করেছেন, ‘স্যার, আমি কি দুপুর ১২টার পরে কাজে বসতে পারি?’ তারপরের মেসেজে তিনি কারণ হিসাবে জানিয়েছেন, ‘আসলে আমার শরীরটা খুব একটা ভাল নেই।’

ম্যানেজার তাঁর মেসেজের উত্তরে জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ নিশ্চয়ই। কিন্তু খুব শরীর খারাপ হয়েছে কি?’ উত্তরে কর্মী জানান, ‘না, সেরকম কিছু নয়। ওই, রেগুলার সমস্যা আর কী!’ তাঁর কথার আড়ষ্টতা বুঝতে পেরে ম্যানেজার জিজ্ঞেস করেন, ‘পিরিয়ডসের সমস্যা কি?’

উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলার পরে ম্যানেজার বলেন, ‘আপনি নতুন জয়েন করেছেন তো আমাদের অফিসে। তাই হয়তো জানেন না, আমাদের অফিসে মহিলাদের পিরিয়ডসের সময় ছুটি থাকে। খুব কষ্ট হলে দু’দিনের টানা বিশ্রাম নিন। কোনও অসুবিধা নেই।’

ওই কর্মী তারপরেও কিন্তু কিন্তু করতে থাকেন। জানান, ছুটির দরকার নেই তাঁর। তখন ম্যানেজার জানান, ‘আরে আরাম করুন। বেতন কাটা যাবে না এতে।’ ম্যানেজারের এই ব্যবহার প্রশংসা পেয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।

পোস্টটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে কমেন্টে ভরে যায় কমেন্ট বক্স। নানা মানুষের নানা মতের মিশেল দেখা যায় সেখানে। কেউ কেউ বলেছেন, ‘এমন কর্মক্ষেত্রে কাজ করেও আরাম। ম্যানেজারকে স্যালুট।’

অনেকে মন্তব্য করেছেন, ‘যেভাবে ম্যানেজার পিরিয়ডসের কথা তুলেছিলেন, সত্যিই অবাক করা ব্যাপার। বেশিরভাগ ম্যানেজার তো ভাববেন পিরিয়ডস কোনও ভিনগ্রহের বিষয়।’

কারও কারও কথায়, ‘কতখানি সেফ একটা কাজের জায়গা যে মহিলা কর্মী অনায়াসে ম্যানেজারকে নিজের পিরিয়ডসের কথা জানাতে পারছেন।’  কেউ কেউ আবার মহিলা কর্মীর ব্যবহার নিয়েও কথা বলেছেন। তাঁদের কথায়, ‘ওঁর ব্যবহারই ওঁকে এই সম্মান এনে দিয়েছে। সব মেয়েরা এই সম্মানের যোগ্য নন।’

আবার কেউ কেউ ম্যানেজারের প্রশংসা করেছেন। নিজের ম্যানেজারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি আইসিইউ থেকে বেরনোর পরে আমার ম্যানেজার আমাকে ডেকেছিলেন ওঁর পাশে বসে রিপোর্ট তৈরি করতে। ম্যানেজাররা আহামরি ভাল হয় না। সেখানে আপনার ম্যানেজার সত্যিই প্রশংসনীয়।’

কেউ কেউ মশকরা করে বলেছেন, ‘পরেরবার উইকএন্ডের আগে বা পরে এই ছুটিটা জুড়ে নেবেন। তাহলে টুক করে একটা উইকেন্ড ট্যুরে ঘুরে আসতে পারবেন।’ তবে মূলত মানুষ অফিসের এই সংস্কৃতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, কর্মীদের যত্ন নিলে কাজের গতি বাড়ে, প্রোডাক্টিভিটিও বাড়ে।