আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি ডাক্তারির প্রবেশিকা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস ঘিরে উত্তাল দেশ। চলছে পুলিশি তদন্ত। পুলিশের জালে ধরা পড়ছে একের পর এক অভিযুক্ত। তদন্তে আরও একজনের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপক এক ছাত্রীকে ফোনে কুপ্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস করার টোপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ঘটনায় অভিযুক্ত ওই সহকারী অধ্যাপকের নাম পরমজিৎ সিং। তিনি লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগে পড়ান। ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপে ওই অধ্যাপককে বিজ্ঞানের চূড়ান্ত বর্ষের এক ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, "ডার্লিং, আমি তোমার জন্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা করেছি। পরীক্ষার আগে এখানে চলে এস, তোমাকে দিয়ে দেব।" এর বিনিময়ে তিনি ওই ছাত্রীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা দাবি করেন বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ঘটনার জেরে ওই ছাত্রী তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপরই, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার নিয়ামক বিদ্যানন্দ ত্রিপাঠী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হাসনগঞ্জ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত অধ্যাপককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জেপি সাইনি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি' বা আইসিসি-কে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, "প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না।" এই ধরনের অভিযোগে 'জিরো-টলারেন্স' নীতি মেনে চলা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যদিও অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক পরমজিৎ সিং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অভ্যন্তরীণ রাজনীতি'-র কারণে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
এদিকে, অডিও ক্লিপটি সামনে আসতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি-র সদস্যরা অধ্যাপকের অবিলম্বে বরখাস্তের দাবিতে ক্যাম্পাসে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এবিভিপি-র বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জয় শ্রীবাস্তব বলেন, "লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বিকৃত মানসিকতার কোনও স্থান নেই।" যৌন হেনস্থা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট করার অপরাধে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন উচ্চশিক্ষা দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই মামলায় তদন্ত শুরু করে সিবিআই। এরপরই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। এখনও পর্যন্ত জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুণে এবং অহল্যানগর থেকে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাদের সাত দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেয়।















