চলতি বছরের বর্ষা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার ইঙ্গিত দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। ২০২৬ সালের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান বর্ষাকাল স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত নিয়ে আসতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এর পিছনে মূল কারণ প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি, যা ভারতের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দিতে পারে।
2
8
এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠার একটি আবহাওয়াগত ঘটনা। এর প্রভাব গোটা বিশ্বের জলবায়ুর উপর পড়ে। ভারতে সাধারণত এল নিনো সক্রিয় হলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর শক্তি কমে যায়, ফলে বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক এলাকায় খরার পরিস্থিতি তৈরি হলেও দক্ষিণ ভারতের কিছু উপকূলীয় অঞ্চলে আবার অতিবৃষ্টির আশঙ্কাও বাড়ে।
3
8
আইএমডি জানিয়েছে, চলতি বর্ষায় বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড় প্রায় ৯২ শতাংশ হতে পারে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী এই গড় প্রায় ৮৭০ মিমি। অর্থাৎ এবারের বর্ষা “স্বাভাবিকের নিচে” থাকতে পারে। আবহাওয়া দফতরের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিকের ৯০ শতাংশেরও কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা অতীতের গড় সম্ভাবনার দ্বিগুণেরও বেশি।
4
8
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্ষার প্রথম দিক, বিশেষ করে জুন মাস তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কিন্তু আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনোর প্রভাব বাড়লে দেশের বড় অংশে বৃষ্টির ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠবে।
5
8
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্য। পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানে দীর্ঘ খরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র, জবলপুর, রেওয়া, সাগর ও নর্মদাপুরম অঞ্চলেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস।
6
8
অন্যদিকে লাদাখ, উত্তর-পূর্ব ভারত, তেলেঙ্গানা এবং রাজস্থানের কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হতে পারে। তবে দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে চেন্নাইয়ে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতের মতো বন্যা ও জলজটের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
7
8
২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত নেমে এসেছিল দীর্ঘমেয়াদি গড়ের মাত্র ৮৬ শতাংশে। সেই সময় দেশের বহু অংশে খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইসঙ্গে চেন্নাই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল। আবার ২০২৩ সালের এল নিনো বছরে শুধু আগস্ট মাসেই দেশে ৩৬ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছিল।
8
8
ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিজমি এখনও বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি হলে কৃষি, জলসংকট এবং খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই এবার এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক হতে শুরু করেছে প্রশাসন ও আবহাওয়াবিদরা।