আজকাল ওয়েবডেস্ক: নমো ভারত র্যাপিড ট্রেনের কামরায় এক তরুণ যুগলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল ছিল নেটদুনিয়া। গাজিয়াবাদ-মিরাট আরআরটিএস রুটের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিন্তু তুমুল বিতর্ক আর পুলিশি তদন্তের মাঝেই এবার এই ঘটনায় এক নাটকীয় ও অপ্রত্যাশিত মোড় সামনে এল। জানা গেছে, ঘটনার কেন্দ্রে থাকা সেই দুই পড়ুয়া এবার সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন। দুই পরিবারের সম্মতিতে ইতিমধ্যেই তাঁদের বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
পারিবারিক সূত্রের খবর, ওই তরুণ এবং তরুণী দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং একই সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগে থেকেই তাঁদের মধ্যে বাগদান বা আংটি বদল হয়ে গিয়েছিল। দুজনেই বেশ স্বনামধন্য কলেজের পড়ুয়া— তরুণী যেখানে বিসিএ (BCA) পড়ছেন, সেখানে তরুণটি বিটেক (B.Tech)-এর ছাত্র। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তরুণী প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকলজ্জা এবং অপমানের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। সৌভাগ্যবশত, পরিবারের মহিলারা সঠিক সময়ে বিষয়টি টের পেয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান এবং তাঁকে শান্ত করেন। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই পরিবারের প্রবীণ ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা এক বৈঠকে বসেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে, তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই বিতর্ক আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। সবদিক বিবেচনা করে দুই পরিবারই যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।
এদিকে এই ঘটনার আইনি জলঘোলাও কম হয়নি। ভিডিওটি যখন প্রথম ভাইরাল হয়, তখন পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬ ধারা (অশ্লীল আচরণ), ৭৭ ধারা (ভয়্যারিজম বা গোপনে ভিডিও ধারণ) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নির্দিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল। দিল্লি-মিরাট রুটে নমো ভারত ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডিবি-আরআরটিএস এজেন্সির নিরাপত্তা প্রধান দুষ্যন্ত কুমার এই অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআর অনুযায়ী, গত ২৪ নভেম্বর বিকেল ৪টে নাগাদ দোহাই থেকে মুরাদনগরগামী একটি ট্রেনের প্রিমিয়াম কোচে এই ঘটনাটি ঘটেছিল।
তবে তদন্তে নামার পর পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষের হাতে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (এনসিআরটিসি) গত ২ ডিসেম্বর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেয়। ট্রেনের চালক বা অপারেটর ডিউটি চলাকালীন নিয়ম ভেঙে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রিশভ নামের ওই ট্রেন অপারেটর কোম্পানির সমস্ত নিয়মকানুন এবং স্থায়ী নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও নিজের ইচ্ছামতো ককপিটে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনের চালক নিজেই কেবিনের ভেতর থেকে ওই তরুণ-তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওটি তাঁর ফোনে রেকর্ড করেন। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে ট্রেনের রানিং ডিসপ্লে এবং যাত্রাপথের সমস্ত বিবরণ দেখা যাচ্ছিল, যা প্রমাণ করে যে ট্রেন চলার সময়ই চালক এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের সুরক্ষার দায়িত্ব ছেড়ে ভিডিও রেকর্ডিং এবং তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে গত ৩ ডিসেম্বর ওই ট্রেন অপারেটরকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সংস্থা। একদিকে যেমন এক অসতর্ক ট্রেন চালকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শাস্তি মিলেছে, অন্যদিকে সমাজমাধ্যমের ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়া দুটি পরিবারও বিয়ের মাধ্যমে এই অপ্রীতিকর অধ্যায়ে ইতি টেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।















