রান্নাঘরে হঠাৎ গ্যাসের গন্ধ পেলেই অনেকেই ভাবেন, 'এমন তো মাঝেমধ্যেই হয়।' কিন্তু এই ছোট্ট ভুল ধারণাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
2
12
গ্যাস লিক থেকে আগুন লাগা, বিস্ফোরণ, এমনকী প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার বা গ্যাস সংযোগ থাকলে কিছু নিরাপত্তার নিয়ম অবশ্যই জানা দরকার।
3
12
গ্যাস লিক হলে সাধারণত তীব্র একটা গন্ধ পাওয়া যায়। কারণ রান্নার গ্যাসে বিশেষ ধরনের গন্ধ মেশানো থাকে, যাতে মানুষ সহজে বুঝতে পারে গ্যাস বেরোচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় পাইপের কাছে হিসহিস শব্দ শোনা যায়। কারও কারও মাথা ঘোরা, বমিভাব বা শ্বাসকষ্টও হতে পারে।
4
12
গ্যাসের গন্ধ পেলেই কী করবেন? প্রথমেই ভয় পাবেন না। শান্ত মাথায় দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
5
12
সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের সব জানলা ও দরজা খুলে দিন। এতে ঘরের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারবে। গ্যাসের রেগুলেটর বন্ধ করে দিন। সম্ভব হলে গ্যাসের নবও বন্ধ করুন। বাড়ির সবাইকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান, বিশেষ করে বাচ্চা ও বয়স্কদের।
6
12
কী করবেন না? এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্যাস লিকের সময় ছোট্ট ভুল থেকেও আগুন লেগে যেতে পারে।
7
12
কোনও লাইট বা ফ্যান অন-অফ করবেন না। মোবাইল চার্জে লাগাবেন না বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করবেন না। দেশলাই, লাইটার বা মোমবাতি জ্বালাবেন না।
8
12
রান্নাঘরে ধূমপান করা একেবারেই বিপজ্জনক। কারণ গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে থাকলে সামান্য স্পার্ক থেকেও বিস্ফোরণ হতে পারে।
9
12
কীভাবে বুঝবেন কোথা থেকে লিক হচ্ছে? অনেক সময় রাবারের পাইপ পুরনো হয়ে গেলে বা ফেটে গেলে গ্যাস বেরতে থাকে। তাই নিয়মিত পাইপ পরীক্ষা করা খুব জরুরি। সাবান জল পাইপের ওপর লাগালে যদি কোথাও বুদবুদ ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে সেখান থেকেই গ্যাস লিক হচ্ছে।
10
12
দুর্ঘটনা এড়াতে কী করবেন? রান্না শেষ হলে শুধু গ্যাস নয়, রেগুলেটরও বন্ধ করুন। পুরনো বা শক্ত হয়ে যাওয়া পাইপ দ্রুত বদলে ফেলুন। রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
11
12
গ্যাসের পাশে কাগজ, কাপড় বা প্লাস্টিক রাখবেন না। বছরে অন্তত একবার গ্যাস লাইন পরীক্ষা করান।
12
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ গ্যাস দুর্ঘটনাই অসাবধানতার কারণে ঘটে। তাই একটু সচেতন থাকলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। পরিবারের সকলের নিরাপত্তার জন্য এই নিয়মগুলো মেনে চলা খুবই জরুরি।