আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের নানা জায়গায় নানা কাহিনী। কোথাও কাহিনী চলে আসছে বছরের পর বছর, লোকমুখে। ছড়িয়ে পড়ছে অন্ধবিশ্বাসের গল্প। যাঁরা সেই গল্প শোনাচ্ছেন আরও পাঁচজনকে, তাঁরা হয়তো শুনেছেন ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছে। তাঁরাও হয়ত শুনেছেন আরও কারও কাছে। 

আবার এমন জায়গাও রয়েছে, যেখানকার মর্মান্তিক কাহিনী লোকমুখে শোনা নয়। বাস্তব, চোখের সামনে ঘটে চলেছে বছরের পর বছর।  রাজস্থানের বুন্দি জেলার বুধপুরার কাহিনি তেমনই। গোটা রাজস্থান ঠিক যে কারণে বিশ্বের নজর কাড়ে, বুন্দির ঘরে ঘরে গল্প ঠিক সেটা নয়। বরং অনেকটাই আলাদা। বুন্দির বুধপুরা একটি বিশেষ কারণে পরিচিত। এই গ্রামকে বলা হয়ে থাকে ভিলেজ অফ উইডোজ, অর্থাৎ বিধবাদের গ্রাম। কিন্তু কেন? কী এমন মর্মান্তিক, ভয়াবহ কাহিনী লুকিয়ে রয়েছে এই গ্রামের আনাচে কানাচে?


সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রামের সত্তর শতাংশ মহিলা যুবতী বয়সেই বিধবা হন। মুখে রক্ত উঠে প্রাণ যায় স্বামীদের। ভয় জাগে, জাগে আতঙ্ক। কিন্তু সংসার চালানোর টানে, পেটের টানে, ওই ভয়াবহ জায়গায় স্বামীর স্থানে কাজে যান স্ত্রীরা, পরে যায় সন্তানেরাও।

প্রশ্ন জাগে কেন এখানকার পুরুষরা কেন অল্প বয়সেই প্রাণ হারান? এক কথায় উত্তর, এখানে পুরুষদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হল বুধপুরার বেলেপাথরের খনি।এই খনিতে কাজ করার কারণে পুরুষরা সিলিকোসিস নামক এক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে, বেশিরভাগ পুরুষই অল্প বয়সে প্রাণ হারান।

বুন্দির তালেদা তহসিলের বারার এলাকা পাথর খনির জন্য বিখ্যাত। ওই অঞ্চলের লোকজন মূলত ওই পাথর খনিতে কাজ করেন। রোজগারের বড় উপায়ও সেটাই ওই অঞ্চলে। বলা হয়, দিনভর খনিতে কাজ করার ফলে, পাথর কাটার সময় উড়ে আসা মারাত্মক ধুলোর কারণে পাথর কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হন। বুধপুরায় আক্রান্তের এবং মৃতের সংখ্যা বেশি বলে তথ্য। তথ্য, সেই কারণেই ভিলেজ অফ উইডোজ বলা হয় বুধপুরাকে।

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বুধপুরা এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুর পর, এমনকি বিধবা মহিলাদেরও পরিবারকে সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এই গ্রামের বেশিরভাগ মহিলাই জীবিকা নির্বাহের জন্য দিনে ১০-১০ ঘন্টা বেলেপাথর ভাঙা এবং খোদাই করে কাজ করেন।খনিতে দিনভর অমানুষিক পরিশ্রমের পর, তাঁদের দৈনিক আয় গড়ে ৩০০-৪০০ টাকা। ওই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই একটা সময় পর ওই কঠিন রোগে আক্রান্ত হন বলেই তথ্য।