আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতের পাঁচটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন জানায়, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে আগামী এপ্রিল মাসে বিভিন্ন দিনে ভোটগ্রহণ হবে। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটগণনা হবে ৪ মে, সেদিনই ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।


নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়—প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণের পর ৪ মে একসঙ্গে গণনা শুরু হবে এবং ওইদিনই জানা যাবে পাঁচ রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নতুন সরকার কারা গঠন করতে চলেছে।


নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, এবারের নির্বাচন হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তিনি জানান, মোট প্রায় ১৭.৪ কোটি ভোটার এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২.১৮ লক্ষেরও বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যার বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গড়ে ৭৫০ থেকে ৮৫০ জন ভোটার থাকবেন, যাতে ভিড় কম থাকে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ হয়।


নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের ভোটে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকেই সরাসরি নজরদারি করা হবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ মডেল ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হবে। কিছু ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে মহিলা কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে, আবার কিছু কেন্দ্র পরিচালনা করবেন বিশেষভাবে সক্ষমরা। 


প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সেই কারণে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা ভারতের এই বিশাল নির্বাচন প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। তাঁর কথায়, “ভারতে নির্বাচন এক ধরনের উৎসবের মতো, যেখানে গণতন্ত্রের শক্তি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।”


এই বিশাল নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ নির্বাচন কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে থাকবেন ভোটকেন্দ্রের কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাদের দায়িত্ব হবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা।


নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, বিভিন্ন বয়সের ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ৮৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ ভোটারদের পাশাপাশি শতবর্ষী ভোটারদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গ—সব জায়গাতেই শতবর্ষী ভোটারের সংখ্যা রয়েছে।

 


সব মিলিয়ে, আগামী এপ্রিল ও মে মাসে এই পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচন ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আরেকটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এবারের ভোটগ্রহণ আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হবে।