আজকাল ওয়েবডেস্ক: কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলের হিমালয়ের চূড়াগুলো জানুয়ারি মাসজুড়ে বরফশূন্য। যা শীতকাল উত্তরাখণ্ডে অস্বাভাবিক দৃশ্য। এই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা সাদা বরফে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্যে অভ্যস্ত, যা প্রায়শই সারা দেশ থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে এই মরসুমে সেই দৃশ্যের দেখা নেই। কম তুষারপাতের কারণে পর্যটন, কৃষি, উদ্যানপালন, জলসম্পদ এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য প্রভাবিত হচ্ছে। 

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এই অঞ্চলগুলি পুরু বরফের চাদরে ঢাকা থাকে। তবে এ বছর জানুয়ারির শুরুতে কেদারনাথে কিছুটা তুষারপাত হলেও, আর বদ্রীনাথে একেবারেই তুষারপাত হয়নি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করছেন। নাসার ফার্মস প্ল্যাটফর্মের স্যাটেলাইট চিত্রগুলিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে কেদারনাথ এবং বদ্রিনাথের মতো প্রধান ধর্মীয় স্থানগুলির চারপাশের পর্বতমালা বরফে ঢাকা থাকার পরিবর্তে শুষ্ক ও কালো দেখাচ্ছে।

জানুয়ারি মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও তুঙ্গনাথের মতো উঁচু এলাকাগুলিতে কোনও তুষারপাত হয়নি। ১৯৮৫ সালের পর এমন ঘটনা আর ঘটেনি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এর কারণ হিসেবে এই শীতে দুর্বল পশ্চিমি ঝঞ্ঝাকে দায়ী করছেন। তারা এই পরিস্থিতিকে ‘তুষার খরা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যা হিমালয় অঞ্চলে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। 

মুসুরি, নৈনিতাল এবং মুক্তেশ্বরের মতো জনপ্রিয় শৈল শহরগুলিতেও নামমাত্র তুষারপাত হয়েছে। সাধারণত শীতকালে বরফ দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে এই স্থানগুলিতে। কিন্তু তুষারপাতের অভাবে পর্যটন এবং স্থানীয় আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

২০২৫ সালের বর্ষাকালে উত্তরাখণ্ডে অসংখ্য মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। গত তিন মাসে রাজ্যজুড়ে তুষারপাত প্রায় হয়নি বললেই চলে। খরার কারণে নন্দা দেবী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য সরকার দুর্যোগজনিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান করেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডে সাধারণত নভেম্বরে ৬.৫ মিলিমিটার, ডিসেম্বরে ১৭.৫ মিলিমিটার এবং জানুয়ারিতে ৪২ মিলিমিটার গড় বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়ে থাকে। এই মরসুমে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মাত্র ০.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ডিসেম্বরে কোনও বৃষ্টি হয়নি এবং ২০২৬-এর জানুয়ারিতে এখনও পর্যন্ত কোনও বৃষ্টিপাত হয়নি।

সংবেদনশীল উচ্চ পার্বত্য পরিবেশে বরফ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ভূমিকা পালন করে। হিমালয়ে বরফ শুধু মনোরম দৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রচুর পরিমাণে বরফ একটি প্রাকৃতিক জলাধারের ভূমিকা পালন করে, যা ধীরে ধীরে গলে জল সরবরাহ করে। গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত গঙ্গা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলিকে পুষ্ট করে। তুষারপাতের অভাবে এই প্রাকৃতিক জল সঞ্চয় চক্র ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে পাহাড় এবং পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষের কৃষি ও পানীয় জলের সরবরাহের উপর প্রভাব পড়বে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে বরফের আকাল দেখা দিয়েছিল কাশ্মীরেও। এর ফলে পর্যটন ব্যবসা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।