আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের যোগীরাজ্যে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী। ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের সহকর্মীর বিরুদ্ধে। কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত সরকারি কর্মীকে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায়। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ বছর বয়সি কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জল সংস্থান ইউনিটের এক ডি-গ্রুপের কর্মীকে। অভিযুক্ত সরকারি কর্মী দিনের পর দিন তাঁর মহিলা সহকর্মীর মেয়েকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করতেন। পাশাপাশি একগুচ্ছ অশালীন ছবি, ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন।
নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ও পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নির্যাতিতার মেডিক্যাল টেস্ট ও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নানা কিছুর টোপ দিয়ে নির্যাতিতা কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করতেন ওই অভিযুক্ত। পাশাপাশি কিশোরীর অশ্লীল ছবি, ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। সেগুলো ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েও যৌন নির্যাতন করতেন।
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, জল সংস্থান ইউনিটের পাশেই পরিবারকে নিয়ে থাকেন অভিযুক্ত। ইতিমধ্যেই ধর্ষণে অভিযুক্ত কর্মীকে সাসপেন্ড করেছেন দপ্তরের কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছেন কর্মীরা। সরকারি দপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গেও একাধিকবার দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, কটুক্তি, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন বলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছেন সহকর্মীরা। ঘটনাটি ঘিরে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানুয়ারির শুরুতেই আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। বাড়ির ছাদেই খেলাধুলা। আচমকাই নিখোঁজ এক নাবালিকা। খানিকক্ষণ পরেই বাড়ির পাশের জমি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ওই নাবালিকাকে। ধর্ষণের পর তাকে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বুলান্দশহর জেলায়। ছ'বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টা পরেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, ছাদ থেকে তাকে ছুড়ে ফেলার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। দুই অভিযুক্ত হলেন রাজু ও ভীরু। সিকান্দ্রাবাদ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এলাকার এক গ্রামে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন দুই অভিযুক্ত। সেই বিল্ডিংয়েই থাকত নির্যাতিতা ও তার পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়ির ছাদেই একা একা খেলছিল নাবালিকা। খানিকক্ষণ পর বাড়ির পাশেই ফাঁকা জমিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরেই নির্যাতিতার বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কানওয়ারা এলাকায় এনকাউন্টার চালায় পুলিশ। এরপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আধিকারিক তেজবীর সিং জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর পুলিশের এনকাউন্টারে দুই অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। তখনই গ্রেপ্তার করে, তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
অন্যদিকে নাবালিকাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগটি প্রমাণের জন্য ময়নাতদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্ত নাবালিকাকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন।
