আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালের দিল্লি হিংসাকাণ্ডে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়ার পরেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে জহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি (জেএনইউ)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠতে দেখা গিয়েছে। সেই সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এরপরেই মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। 

জেএনইউ-এর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি কঠোর ভাষায় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে লেখা হয়েছে, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলি উদ্ভাবন এবং নতুন ধারণার কেন্দ্র, এবং সেগুলিকে ঘৃণার কারখানায় পরিণত হওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না। বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার।”

পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কোনও ধরণের হিংসা, বেআইনি কার্যকলাপ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী জড়িতদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত, বহিষ্কার বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।”

মঙ্গলবার পুলিশের কাছে জেএনইউ-এর করা অভিযোগ অনুযায়ী, চিঠিতে বলা হয়েছে যে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরেই ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীর একটি দল উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। আরও বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের তোলা স্লোগানগুলি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের অবমাননার শামিল। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা জেএনএসইউ-এর সভাপতি অদিতি মিশ্র। তাঁদের কর্মসূচিকে কোনও ধরনের প্রতিবাদ হিসেবে দেখতে অস্বীকার করে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে অদিতি বলেন, “কর্মসূচিতে উত্থাপিত সব স্লোগানই আদর্শগত ছিল এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়নি।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ওঠা স্লোগানগুলি আপত্তিকর বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২০০২ সালের এত গুলি হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। কেউ তাঁদের কিছু করতে পেরেছেন? কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁরা যে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের মেনে চলেন, তা এই দেশ থেকে শেষ হওয়া উচিত।”

এই স্লোগানের ঘটনা এক দশক আগে জেএনইউ ক্যাম্পাসের ভিতরে আরও একটি স্লোগান দেওয়ার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। জঙ্গি আফজল গুরুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তৎকালীন জেএনইউএসইউ সভাপতি কানহাইয়া কুমার এবং উমর খালিদের উপস্থিতিতে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।