আজকাল ওয়েবডেস্ক, নয়াদিল্লি: ত্রিপুরা রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলির উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজ নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করির সঙ্গে এক বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা।
বৈঠকে রাজ্যের চলমান জাতীয় সড়ক প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, বিদ্যমান সড়কগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের আভ্যন্তরীণ ও আন্তঃরাজ্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ত্রিপুরায় জাতীয় সড়কের পরিসর ২০১৪ সালে ১৯৮ কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ৯২৩ কিলোমিটারে উন্নীত হওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী নীতিন গড়করিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে সময়বদ্ধভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চুড়াইবাড়ি থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত এনএইচ-০৮-এর ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চার-লেন প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। রেলপথের সমান্তরালে নির্মিতব্য এই গ্রিনফিল্ড চার-লেন সড়কে আঠারোমুড়া ও লংথরাই অঞ্চলে টানেল নির্মাণ করা হবে। খুব শীঘ্রই ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এনএইচ-০৮-এর রানিরবাজার থেকে আইএসবিটি (চন্দ্রপুর) পর্যন্ত অবশিষ্ট অংশের চার-লেন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ জমি এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এর পরপরই এনএইচআইডিসিএল টেন্ডার আহ্বান করবে।
আগরতলা-উদয়পুর এনএইচ-০৮ চার-লেন প্রকল্পের ডিপিআর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যানবাহনের সংখ্যা, পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হবে।
উদয়পুর-অমরপুর (২৪ কিলোমিটার) সড়ককে এনএইচ-০৮-এর একটি স্পার হিসেবে জাতীয় সড়কের মানে উন্নীত করার জন্য ডিপিআরও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সড়কটি মাতাবাড়ি ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির, ছবিমুড়া ও ডম্বুর পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে।
পর্যটন, বাণিজ্য এবং প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে কমলপুর-অম্বাসা-গন্ডাছড়া-শান্তিরবাজার (১৪৮ কিলোমিটার) সড়ক উন্নয়নের কাজ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক গ্রহণ করবে।
আগরতলা শহরের ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পশ্চিম বাইপাস নির্মাণের জন্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় রেখে সার্ভিস লেন সংযুক্ত করে নতুনভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
লেম্বুছড়া থেকে খয়েরপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব বাইপাস চার-লেন প্রকল্পের কাজ অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তকরণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হবে।
আগরতলা-খোয়াই এনএইচ-১০৮বি, কুমারঘাট-কৈলাশহর ও কৈলাশহর-খোয়াই এনএইচ-২০৮ এবং কাইলাশহর-কুর্তি ব্রিজ এনএইচ-২০৮এ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি কেন্দ্রীয় সড়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (CRRI) সুপারিশ অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় সড়কগুলিতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে বর্ষাকালে সংলগ্ন জনবসতিতে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সমস্যা কমানো যায়।
কুর্তি ব্রিজ থেকে চাঁদখিরা পর্যন্ত এনএইচ-২০৮এ স্পার সড়ককে ৭ মিটার থেকে ১০ মিটার প্রশস্ত করার বিষয়ে অসম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
রাজ্য সরকার সকল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে ভূমি অধিগ্রহণ, বনভূমি সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের সচিব ভি. উমাশঙ্কর, এনএইচআইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণ কুমার, ত্রিপুরা সরকারের পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, প্রধান প্রকৌশলী (জাতীয় সড়ক) সুব্রত বণিক, এনএইচআইডিসিএল-এর আঞ্চলিক আধিকারিক সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা ত্রিপুরায় রেকর্ড সংখ্যক জাতীয় সড়ক প্রকল্প এবং আগরতলা রিং রোড প্রকল্প অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।















