আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার থেকে ফোন নম্বর না দেখিয়েও, অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে চ্যাট করা সম্ভব। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র ইউজারনেম ব্যবহার করে চ্যাট করতে পারবেন। এই ফিচারটি চালু করার পরিকল্পনা করছিল মেটা। তবে এই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। মেটার নোচিশ দিয়েছে কেন্দ্র। তাতে কাছে মেটার কাছ থেকে এই 'ইউজারনেম' ফিচারটি সম্পর্কে তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, এই বিষয়ে আলোচনা বা পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া যেন ফিচারটি চালু করা যাবে না।

'ইউজারনেম' ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই একটি ইউজারনেম বেছে নিতে এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গোপনীয় ও কম অনধিকারমূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য কেবল তার ফোন নম্বর জানাই যথেষ্ট।

ধাপে ধাপে এই ফিচারটি চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সপ্তাহ থেকেই ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ইউজারনেমটি সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন, যদিও ফিচারটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বছরের শেষের দিকে চালু হবে। বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী থাকায় হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে যে, বিশাল এই ব্যবহারকারী-ভিত্তির কথা বিবেচনা করেই তারা আগেভাগে ইউজারনেম সংরক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে।

এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, নতুন এই ফিচারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে "ব্যবহারকারীর ফোন নম্বরের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে"।

তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। বুধবারের নোটিশে সরকার বলেছে, "আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই ফিচারের ফলে অনলাইন জালিয়াতি, ফিশিং, 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' স্ক্যাম এবং ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে দুষ্কৃতিরা সহজেই ভুক্তভোগীদের কাছে বার্তা পাঠাতে বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।"

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, "তাছাড়া, এই ফিচারের মাধ্যমে প্রকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে হুবহু বা খুব কাছাকাছি মিল থাকা ইউজারনেম ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর ফলে কোনও ব্যক্তি, সরকারি কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার ছদ্মবেশ ধারণ বা পরিচয় জালিয়াতির  মতো ঘটনা ঘটতে পারে।"

হোয়াটসঅ্যাপ প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। 'ইউজারনেম' ফিচারটিকে সোশ্যাল মিডিয়া পরিচয়ের পরিবর্তে মূলত গোপনীয়তা রক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে। এ কারণেই এতে কোনও 'সার্চযোগ্য ডিরেক্টরি' বা পরামর্শের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে প্রথমবারের মতো কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তার সঠিক ইউজারনেমটি জানা আবশ্যক।

ব্যবহারকারীরা চাইলে 'ইউজারনেম কি'  সেট করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন যে কারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। ইউজারনেমের মাধ্যমে পাঠানো প্রথম বার্তার ক্ষেত্রে এই 'কি' -এর প্রয়োজন হবে, যা সুরক্ষার একটি বাড়তি স্তর হিসেবে কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা যেকোনও সময় এই 'কি' পরিবর্তন করতে পারবেন।