আবু হায়াত বিশ্বাস: ভোটমুখী পাঞ্জাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি শুরু করল কংগ্রেস। দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনা ও রাজ্য নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বুধবার সন্ধ্যায় দলের হাইকমান্ড পাঞ্জাবের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ঘোষণা করেছে। বার্তা স্পষ্ট, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য দূরে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই করতে চায় কংগ্রেস।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নিকে নির্বাচনী প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী বিজয় ইন্দর সিংলাকে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রানধাওয়া হয়েছেন দলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান। লোকসভা সাংসদ অমর সিংকে করা হয়েছে ম্যানিফেস্টো কমিটির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে পাঞ্জাব কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্বে কোনও পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং এবং কংগ্রেস বিধায়ক দলের নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া নিজেদের পদেই বহাল থাকছেন। এর আগে ওয়ারিংকে সরিয়ে নতুন মুখ আনার জল্পনা চলছিল। চান্নি, বাজওয়া-সহ একাধিক নেতা প্রদেশ সভাপতির পদের দৌড়ে ছিলেন বলেও আলোচনা ছিল। তবে নেতৃত্ব বদল করলে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে - এই আশঙ্কাতেই বর্তমান ব্যবস্থাই বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। নতুন কমিটি ঘোষণায় সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। তিন কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সুখবিন্দর সিং ড্যানি, রাজ কুমার ভেরকা এবং সংগত সিং গিলজিয়ান। প্রচার কমিটির সহ-চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুখপাল সিং খৈরা, রানা গুরজিৎ সিং এবং ধরমবীর গান্ধীকে।

পাঞ্জাবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরাই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। ২০২২ সালের নির্বাচনে আম আদমি পার্টির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে রাজ্যে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে দল। বর্তমানে ভগবন্ত মান নেতৃত্বাধীন আপ সরকারকে ঘিরে বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে এনে ভোটারদের কাছে পৌঁছতে চাইছে কংগ্রেস।

দলীয় সূত্রের মতে, পাঞ্জাবে জাতিগত ও সামাজিক সমীকরণও মাথায় রাখা হয়েছে নতুন কমিটি গঠনের সময়। জাট শিখ নেতৃত্বের পাশাপাশি দলিত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ভোটব্যাঙ্ককে একসঙ্গে ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস।অন্যদিকে, বিজেপিও সম্প্রতি পাঞ্জাবে জাট শিখ নেতা কেওয়াল সিং ধিলোঁকে রাজ্য সভাপতি করেছে। ফলে আগামী নির্বাচনে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।