আজকাল ওয়েবডেস্ক: সর্বোচ্চ আদালত অনলাইন অশ্লীল বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আধারভিত্তিক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বার অ্যান্ড বেঞ্চ–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজেই অশ্লীল কনটেন্টে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিচারপতি বাগচি মন্তব্য করেন, বই, শিল্পকর্ম বা নিলামেও অশ্লীলতা থাকতে পারে এবং সেখানে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু মোবাইল ফোন অন করলে কেউ না চাইতেও এমন কনটেন্ট সামনে চলে আসে—এটাই বিপজ্জনক দিক। প্রধান বিচারপতি মত দেন, কোনও ভিডিও চালু হওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড সতর্কতা বার্তা দেখানো যেতে পারে এবং তার পরে আধার নম্বরের মাধ্যমে বয়স যাচাই করেই প্রবেশাধিকার দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র প্রস্তাব, তবে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। তাঁর কথায়, সমাজকে দায়িত্বশীল করে তুলতে পারলেই এই সমস্যার বড় অংশ কমে যাবে।
আদালতে এই শুনানি হয়েছিল SMA Cure Foundation–এর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে। এই সংস্থা বিরল জেনেটিক রোগ স্পাইনাল মিউস্কুলার অ্যাট্রফি (SMA) আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। তারা অভিযোগ জানিয়েছিল যে কিছু স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান এবং ইনফ্লুয়েন্সার, যেমন—সময় রায়না, বিপুন গয়াল, সোনালি ঠাক্কার, নিশান্ত তানওয়ার এবং বালরাজ সিং ঘাই—অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে কৌতুক করেছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা প্রচার করেছেন।
শুনানিতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়েছে, শারীরিক বা জিনগত প্রতিবন্ধকতা–সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কটূক্তি, অপমান ও বিদ্রুপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো কঠোর আইন তৈরির বিষয়ে ভাবতে হবে। বিচারপতিদের প্রশ্ন—যদি তফসিলি জাতি-জনজাতির জন্য SC–ST অ্যাক্ট তৈরি করা যায়, যেখানে জাতিগত অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ—তবে প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের আইন কেন থাকবে না?
সরকারের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল আদালতকে জানান, ইন্টারনেটের সমস্যা শুধু অশ্লীলতায় সীমিত নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকারীদের তৈরি “বিকৃত” কনটেন্ট আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। তাঁর দাবি—বাক্স্বাধীনতা মূল্যবান হলেও তা বিকৃতির আকার নিতে পারে না।
আদালত আরও মন্তব্য করে, কেবল স্বনিয়ন্ত্রিত সংস্থার উপর ভরসা করলে চলবে না। নিরপেক্ষ ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে, যেখানে কনটেন্ট নির্মাতা ও সরকার কেউই প্রভাব খাটাতে পারবে না। বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে—যদি স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তবে এত অভিযোগ ও বিতর্ক কেন বাড়ছে?
আগে আদালত জানিয়েছিল, বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক বক্তব্য এবং নিষিদ্ধ বক্তৃতা সংবিধানের আওতায় বাকস্বাধীনতার অধিকার হিসেবে গণ্য হয় না। আদালত ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কনটেন্ট নির্মাতাকে তাদের ভিডিওতে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই আদালতের আধারভিত্তিক বয়স যাচাইয়ের প্রস্তাব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বাকস্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। এখন নজর কেন্দ্রে—সরকার কি এমন আইন আনবে, নাকি আরও মতামত নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
