আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের আদমশুমারি বা জনগণনার আগে প্রশ্নপত্রের নোটিফিকেশন জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার গেজেট অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে এই প্রশ্নগুলো হল জনগণনার প্রথন ধাপের প্রশ্ন। এই বিজ্ঞপ্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ১৯৪৮ সালের আদমশুমারি আইনের বিধান অনুসারে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে জারি করেছে। ফলে বাতিল হয়ে গেল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জারি করা পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তি।
প্রথম ধাপে হবে বাড়ি ও বসতভিটে সংক্রান্ত গণনা (হাউসলিস্টিং এবং হাউজিং সেনসাস)। এই পর্যায়ে মোট ৩৩টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। চলতি বছরের ১লা এপ্রিল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। জনসংখ্যা গণনার দ্বিতীয় ধাপের প্রশ্নপত্র পরে আলাদা ভাবে জানানো হবে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
জনগণনার প্রথম পর্যায়ে ২০১১ সালে প্রশ্ন ছিল ২৯টি। এই বছর তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও চারটি। বাড়তি প্রস্নগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য সংক্রান্ত জড়িত। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজে নিজে তথ্য দেওয়ার বা সেলফ এনিউমারেশনের সুযোগও রাখা হচ্ছে। যা ১৫ দিনের জন্য খোলা থাকবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রশ্নগুলিতে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের গঠন এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির নম্বর, আদমশুমারি বাড়ির নম্বর, মেঝে, দেয়াল এবং ছাদের জন্য ব্যবহৃত প্রধান উপকরণ, আদমশুমারি বাড়ির ব্যবহার ও অবস্থা এবং পরিবারের নম্বর। এছাড়াও, পরিবারে সাধারণত বসবাসকারী মোট ব্যক্তির সংখ্যা, পরিবারের প্রধানের নাম ও লিঙ্গ এবং প্রধান তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি বা অন্যান্য বিভাগের অন্তর্ভুক্ত কিনা সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ির মালিকানার অবস্থা, বসবাসের ঘরের সংখ্যা, পরিবারে বসবাসকারী বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা এবং পানীয় জলের প্রধান উৎস ও তার সহজলভ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য বিবরণের মধ্যে রয়েছে আলোর প্রধান উৎস, শৌচাগারের সুবিধা, শৌচাগারের ধরন, বর্জ্য জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্নানের সুবিধার সহজলভ্যতা, রান্নাঘর এবং এলপিজি/পিএনজি সংযোগ এবং রান্নার জন্য ব্যবহৃত প্রধান জ্বালানি।
আদমশুমারিতে রেডিও বা ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, টেলিফোন বা মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন, সাইকেল, স্কুটার, মোটরসাইকেল, মোপেড, গাড়ি, জিপ বা ভ্যানের মতো পারিবারিক সম্পত্তির মালিকানাও রেকর্ড করা হবে। এছাড়াও পরিবারে খাওয়া প্রধান শস্য এবং আদমশুমারি-সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
২০২৭ সালে দু'টি পর্যায়ে জনগণনা হবে। দ্বিতীয় ধাপে জনসংখ্যা গণনার পাশাপাশি জাতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।
