আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এ নেতৃত্বে প্রজন্ম বদল। রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হল তেজস্বী যাদবকে। আরজেডি-র অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছে, 'এক নতুন যুগের সূচনা! শ্রী তেজস্বী যাদব জি রাষ্ট্রীয় জনতা দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।'

এই ঘোষণাটি আরজেডি-র জাতীয় কার্যনির্বাহী সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে করা এই সভায় আরজেডি-র দুই শীর্ষ নেতা তথা বিহারের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  লালু যাদব এবং তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী উপস্থিত ছিলেন। লালু যাদব অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তাঁর ছেলে তেজস্বী যাদবের হাতে জাতীয় কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্টের নিয়োগপত্র তুলে দেন।

আরজেডি-তে জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির কোনও পদই ছিল না। নতুন এই পদ তৈরি করে তেজস্বী যাদবকে বসানোয় দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এল। 

মুখ্যমন্ত্রী দম্পতির কনিষ্ঠ পুত্র তেজস্বীকে, তাঁর বড় ভাই তেজ প্রতাপ যাদব থাকা সত্ত্বেও, বাবার পর দলের কার্যত নেতা হিসেবেই দেখা হতো। গত বছর লালু তেজ প্রতাপকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তারপর থেকে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে যে, ছোট ছেলে তেজস্বীকেই তিনি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ব্যাটন তুলে দেবেন।

একসময় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলা একজন উদীয়মান ক্রিকেটার হলেও, তেজস্বী যাদব রাজনীতির জগতে নতুন নন। ২০২০ সালের বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আরজেডি বিধানসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট বেঁধে আরজেডি কিথু দিনের জন্য সমনদে বসে। উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তেজস্বী যাদব

তবে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে (২০২৫ সালের বিহারে বিধানসভা ভোট) তেজস্বী যাদবের জোরালো প্রচার সত্ত্বেও আরজেডি-র ভরাডুবি হয়। বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে দলটি তৃতীয় স্থানে নেমে আসে। বিজেপি এবং জেডিইউ আগের চেয়ে প্রবল শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

আরজেডি-র নেতৃত্বভার নিয়ে লালু ও রাবড়ির ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কয়েক মাস আগেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বোন রোহিনী আচার্য তেজস্বীর বিরুদ্ধে চটি ছুঁড়ে মারার অভিযোগ করেছিলেন। যা নিয়ে জোর চর্চা চলে। দলে তেজস্বীর শীর্ষ পদে নিয়োগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রোহিনী। সেখানে লেখা হয়েছে, 'পুতুলে পরিণত হওয়া এক রাজকুমারের রাজ্যাভিষেক। রাজনীতির শিখরে, এক অর্থে একজন মানুষের গৌরবময় ইনিংসের মহাসাফল্য, সেই রাজকুমারের রাজ্যাভিষেকের জন্য চাটুকার এবং অনুপ্রবেশকারী গ্যাং-কে অভিনন্দন, যাঁকে তারা পুতুলে পরিণত করেছে।'

তেজস্বী যাদব ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তাঁরা সাত বোন ও দুই ভাই রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাটনায় বেড়ে উঠলেও, পরে তিনি দিল্লিতে চলে যান এবং আর কে পুরমের দিল্লি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। তবে, তিনি দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

ক্রিকেটের একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী হিসেবে, এই অলরাউন্ডার তেজস্বী যাদব তাঁর স্কুল দলের অধিনায়কত্ব করেছেন এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলস দলের অংশ ছিলেন, কিন্তু আইপিএলে অভিষেক করতে পারেননি। তাঁর ক্রিকেট জীবন স্বল্পস্থায়ী ছিল। তবে এই ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগই তেজস্বীকে বিহারের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জনে সহায়তা করেছিল।

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশিই ২০১০ সালে তেজস্বী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বাবার তত্ত্বাবধানে তিনি আরজেডি-র জন্য প্রচার শুরু করেন। দলের ডিজিটাল প্রচার ও কৌশল আধুনিকীকরণে তাঁর অবদান রয়েছে। লালুর ছোট ছেলের এই প্রাথমিক সম্পৃক্ততা বিহারের রাজনীতিতে তাঁর দ্রুত উত্থানের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

২০১৫ সালে, তেজস্বী মহাজোটের অংশ হিসেবে রাঘোপুর থেকে তাঁর প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২৬ বছর বয়সে তিনি রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। ২০১৭ সালে নীতীশ কুমার জোট ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি বিরোধী দলনেতার ভূমিকা গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে তিনি আরজেডি-র অঘোষিত নেতায় পরিণত হন। এ দিন যা পূর্ণতা পেল।