৪ মার্চ সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় একটি সামরিক হামলায় একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ভিডিওটি Israel Defense Forces (IDF)–এর পক্ষ থেকে শেয়ার করা হয়েছিল। তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়—আসলে কি সত্যিই একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছিল, নাকি সেটি ছিল মাটিতে আঁকা একটি ভুয়ো ছবি?
2
6
কিছু অনলাইন ব্যবহারকারী দাবি করেন, এটি কোনও বাস্তব হেলিকপ্টার নয় বরং মাটিতে আঁকা একটি নকল হেলিকপ্টার। তাদের মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে এমন 'ডিকয়' তৈরি করেছে যাতে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র অপচয় হয়। যদি তা সত্যি হয়, তবে এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, কারণ একটি ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৩০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে একটি 'ডিকয়' তৈরি করতে খুবই কম খরচ লাগে।
3
6
তবে অন্য অনেক পর্যবেক্ষক এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, ভিডিওতে তাতে একটা হামলার পরে হেলিকপ্টারের রটার নড়াচড়া করছে না, যা ডিকয় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। আবার অন্যদের মতে, বিস্ফোরণের ধোঁয়া রটার ব্লেডের নিচ দিয়ে বয়ে যেতে দেখা যায়—যা হলে সেটা মাটিতে আঁকা ছবি হওয়া সম্ভব নয়।
4
6
সামরিক সংবাদভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া পেজ Status-6 ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছিল যে সম্ভবত ইজরায়েলি বিমানবাহিনী মাটিতে আঁকা একটি Mil Mi-17 হেলিকপ্টারের ডিকয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে একই পোস্টে যুক্ত করা একটি কমিউনিটি নোটে বলা হয়, ভিডিওতে যে তাপমাত্রার চিহ্ন বা থার্মাল সিগনেচার দেখা যাচ্ছে, তা কেবল একটি আঁকা ছবির মাধ্যমে তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।
5
6
ভিডিওটি প্রথমে Israel Defense Forces–এর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, হামলায় “ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।” তবে পরে ডিকয় তত্ত্ব সামনে আসার পরও ইজরায়েলি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আর কোনও আপডেট দেয়নি। তবে আরেকটি ফ্যাক্ট চেকিং সূত্রে জানা যাচ্ছে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এইসব ভিডিও এবং ছবিগুলি গুগলের AI টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
6
6
এখনও পর্যন্ত ইরান বা ইজরায়েল—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে ভিডিওতে দেখা বস্তুটি সত্যিকারের হেলিকপ্টার ছিল নাকি একটি ডিকয়। যদিও সামরিক কৌশলে ডিকয় ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে বহুবার শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, D‑Day অভিযানের আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী বন্দরে নকল নৌকা রেখে জার্মান বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।