আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরে মার্চ মাসে ভারতে বড় বিপদ। বহু মানুষের মাথায় হাত পড়বে। এমন এক সঙ্কট তৈরি হবে, যার জেরে গোটা দেশেই ভোগান্তির শিকার হবে মধ্যবিত্তরা। পাঁচ মাস আগেই এমন এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এক জ্যোতিষী। 

কী সেই বিপদ? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রশান্ত কিনি নামের এক জ্যোতিষী এক্স হ্যান্ডেলে পাঁচ মাস আগেই লিখেছিলেন, 'ভারতে জ্বালানি ও এলপিজি সঙ্কট তৈরি হবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের পরেই বিপদের আশঙ্কা।' সম্প্রতি সেই পোস্টটি আবারও তিনি শেয়ার করেছেন। 

">  

 

প্রশান্ত লিখেছেন, 'এই ভবিষ্যদ্বাণী আমি পাঁচ মাস আগেই করেছিলাম।' জানা গেছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এক্স হ্যান্ডেলে জ্বালানি ও এলপিজির দাম বৃদ্ধির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি। সেই পোস্টটি এবার ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই লিখেছেন, 'মার্চের শেষে আরও কী কী ঘটবে তাই দেখার অপেক্ষায়।' একজন মজা লিখেছেন, 'গ্যাসের দাম কবে কমবে, এবার সেটাই বলে দিন!' 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। এই যুদ্ধ শুরুর পরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। যার জেরে ভারতের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা শুরু থেকেই ছিল। যুদ্ধের ঝাঁঝ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে এলপিজির সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। দাম বেড়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এবং রান্নার গ্যাসেরও। 

এলপিজি সঙ্কটের আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিরাট শোরগোল। ইতিমধ্যেই বহু বড় শহরে একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। বড় রেস্তোরাঁগুলি মেনুতেও কাটছাঁট করেছে। দাম বাড়ছে খাবারের, অটো, বাসের। 

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এই প্রণালীটি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। তার ফলে এলপিজি সরবরাহে তৈরি হয়েছে সমস্যা। ভারতে রান্নার গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ গ্যাস হরমুজ প্রণালী হয়ে দেশে আসে। 

ছোটখাটো দোকানের মালিকরা এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন ২৫০০ টাকায়। যার জেরে ছোট একটি সিঙাড়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এমনকী চায়ের দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা হয়েছে। 

এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায়, এই সঙ্কটকালে একের পর এক রেস্তোরাঁ, ধাবা, চায়ের দোকান, জাঙ্ক ফুডের ছোট্ট স্টল ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রেস্তোরাঁ বন্ধ এবং নামী রেস্তোরাঁয় মেনু কাটছাঁট হওয়ায় গিগ কর্মীদের মাথায় হাত। শ্রমিক সংগঠনের তরফে জানা গেছে, লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মী ইতিমধ্যেই চাকরি খুঁইয়েছেন। এলপিজির সঙ্কটে বিভিন্ন শহরে খাবার ডেলিভারি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে।