আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, প্রথমবার আশকা মাথায় নিয়েই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে প্রথম জাহাজ এল ভারতে। ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর পেরিয়ে সেটি পৌঁছেছে ভারতে। তথ্য, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজে রয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি অপরিশোধিত তেল। নাম শেনলং সুয়েজম্যাক্স। ওই তেল এবার যাবে মুম্বইওয়ের শোধনাগারে।

তারপর থেকেই চর্চায়, ওই তেলবাহী জাহাজ, এই পরসিথিতিতেও কীভাবে পৌঁছল মুম্বইয়ে। কোন পন্থা অবলম্বন করেই কেল্লাফতে?

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রইতিবেদনে উল্লিখিত, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে রওনা দেয়। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা যায় যে, জাহাজটির সিগন্যাল শেষবার ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীর ভিতরে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দেখা গিয়েছিল, তারপর নিখোঁজ হয়ে যায়। এর থেকে বোঝা যায় যে, জাহাজের ক্রুরা বিপজ্জনক জলপ্রপাত অতিক্রম করার সময় জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সফলভাবে অতিক্রম করার পর, পরের দিন ভারতের দিকে যাত্রা শুরু করার সময় জাহাজটি আবার সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা দেয়।

 

যুদ্ধের বাজারে বিরাট স্বস্তি এসেছে ভারতের। যুদ্ধের ১৩ দিন পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় রেলের জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিল ইরান। সূত্রের খবর, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর প্রথমবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় বন্দরে একটি তেলের জাহাজ এসে পৌঁছেছে। মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছে সেই তেলের জাহাজ। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাগছি ও ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে আলোচনার পরেই ভারতকে এই বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আলোচনার পরেই ভারতের দু'টি তেলের জাহাজ 'পুষ্পক' ও 'পরিমল' হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসার ছাড় পেয়েছে। শীঘ্রই ভারতের বন্দরে এই জাহাজ দু'টি পৌঁছবে। 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। এই যুদ্ধ শুরুর পরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। যার জেরে ভারতের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা শুরু থেকেই ছিল। যুদ্ধের ঝাঁঝ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে এলপিজির সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। দাম বেড়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এবং রান্নার গ্যাসেরও। 

এলপিজি সঙ্কটের আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিরাট শোরগোল। ইতিমধ্যেই বহু বড় শহরে একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। বড় রেস্তোরাঁগুলি মেনুতেও কাটছাঁট করেছে। দাম বাড়ছে খাবারের, অটো, বাসের। 

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এই প্রণালীটি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। তার ফলে এলপিজি সরবরাহে তৈরি হয়েছে সমস্যা। ভারতে রান্নার গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ গ্যাস হরমুজ প্রণালী হয়ে দেশে আসে। 

দেশে বছরে প্রায় ৩১ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ ব্যবহার করে সাধারণ পরিবার। বাকি অংশ ব্যবহার করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ। যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ।