আজকাল ওয়েবডেস্ক: অশৌচ চলাকালীন অঘটন। স্রেফ অসাবধানতাবশত জল ছিটিয়ে দিয়েছিল একদল নাবালক। তার জেরেই তাদের গায়ে ফুটন্ত তেল ছুড়ে মারলেন এক ব্যক্তি। অগ্নিদগ্ধ পাঁচ নাবালক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ১০০ বছর বয়সি হিরালাল নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর অশৌচ পালন করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ১৩ দিন ব্যাপী এই রীতির স্থানীয় নাম, 'তেরভী'। সেই রীতি পালনের সময়েই বিপত্তি ঘটে।
পাশেই পাঁচ নাবালক আপন মনে খেলাধুলা করছিল। অসাবধানতাবশত তারা জল ছিটিয়ে দেয়। সেই জল অভিযুক্ত বিশাল নামের এক ব্যক্তির গায়ে লাগে। অশৌচের সময় এহেন কাণ্ডে রাগের মাথায় চরম পদক্ষেপ করেন তিনি। পাশের দোকান থেকে ফুটন্ত তেল এনে ওই পাঁচ নাবালকের গায়ে ছিটিয়ে দেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর দগ্ধ হয়েছে ওই পাঁচ নাবালক। তাদের বয়স, ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। যন্ত্রণায় যখন তারা ছটফট করছিল, সেই সময়েই চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি পাঁচজনকেই উদ্ধার করে উন্নাও থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে লখনউয়ের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই নাবালকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তারা। পাঁচজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
দিন কয়েক আগেই এরকম আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। রং খেলতে গিয়েই অঘটন। ঠাকুমাকে দেখেই জল রঙের পিচকিরি নিয়ে ছুটে আসছিল এক শিশু। রং ছোড়ার চেষ্টা করতেই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটালেন ওই মহিলা। শিশুটির গায়ে ঢেলে দিলেন ফুটন্ত গরম জল। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি সে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সকালে হোলিতেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। সকালে ঠাকুমাকে জলরং ছুড়তে গিয়েছিল চার বছরের এক শিশু। রং দেওয়ার চেষ্টা করাতেই রাগে ফুঁসতে থাকেন ঠাকুমা। তখনই ফুটন্ত জল এনে শিশুর গায়ে ঢেলে দেন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, চার বছরের ওই শিশু গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হোলির সকালে আপনমনে রং খেলায় মেতে উঠেছিল চার বছরের ওই শিশু। হঠাৎ ঠাকুমাকে দেখেই জল রঙের পিচকিরি নিয়ে ছুটে আসে শিশুটি।
সিন্ধু ঠাকরে নামের ওই মহিলার হাতে তখন ফুটন্ত গরম জলের বালতি ছিল। রং লাগানোর চেষ্টা করতেই শিশুর গায়ে ফুটন্ত গরম জল ছুড়ে মারেন তিনি। ঘটনাটি দেখেই পাশের এক মহিলা ছুটে এসে শিশুটির গায়ে ঠান্ডা জল ঢালতে শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে অঘটন ঘটে গেছে। শিশুটির কোমর থেকে পা পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে ওই শিশু। তার বাড়ি থেকেও লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
