আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনে ভাল ফলাফল, তা সত্ত্বেও সংখ্যার গেঁরোয় ফস্কে যেতে পারত মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। যদিও শেমেষ তা হয়নি। তামিলনাড়ুর মসনদে বসেছেন অভিনেতা থেকে নেতা হয়ে ওঠা টিভিকে প্রধান বিজয়। রাজ্যপালের সবুজ সংকেতের প্রাথমিকভাবে ১০ মে বিকেল পৌনে চারটের সময়কে বহু-প্রতীক্ষিত তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলের পরামর্শে বিজয় 'শুভ মুহূর্ত'-এর কথা বিবেচনা করে শপথের সময় এগিয়ে আনেন ওই দিন সকাল ১০টায়। জানা গিয়েছে, বিজয়ের এই পুরো রাজনৈতিক যাত্রাপথে প্রতিটি পদক্ষেপে জ্যোতিষী ভেট্রিভেলর নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছিল।

এরপরই জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে পুরস্কৃত করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তামিলনাড়ু সরকারের তরফে মঙ্গলবার রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর 'বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক' (রাজনৈতিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তামিলনাড়ুর একজন বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে পরিচিত ভেট্রিভেল নির্বাচনের অনেক আগেই বিজয়ের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। শুধু বিজয়ই নন, জয়ললিতা-সহ আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদকে ভেট্রিভেলের কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাতে বা পরামর্শের জন্য লাইন দিতে দেখা যেত। তবে, যখন টিভিকে দল জয়লাভ করে, তখন বিজয়ের জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাতে তাঁর দোরগোড়ায় পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তিদের মধ্যে ভেট্রিভেল ছিলেন অন্যতম।

যে ব্যক্তি চার দশক ধরে জ্যোতিষচর্চার ক্ষেত্রে যুক্ত আছেন এবং বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক দিকপালের ভাগ্য বাতলানো বা ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, তিনি নিজের রাজনীতিতে প্রবেশের বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন কি না, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। বস্তুত, তামিলনাড়ু রাজনীতির ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষকরা জানান যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাও প্রায়শই ভেট্রিভেলের পরামর্শ নিয়ে বড় বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মানুষকে জ্যোতিষশাস্ত্র বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বিজয়ের জয় সংক্রান্ত ভেট্রিভেলের ভবিষ্যদ্বাণীর খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছেন যদি এমন কেউ থেকে থাকেন, তবে তিনি হলেন প্রদীপ গুপ্ত এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান 'অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া'। এই সংস্থা এক্সিটপোলে টিভিকে-কে ১০৮ থেকে ১২০টি আসন পাবে বলে জানিয়েছিল।

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে (তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম) অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসাবে উঠে এসেছে। ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়লাভ করে। বিজয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, কংগ্রেস ও ভিসিকে -সহ বেশ কয়েকটি দল তাঁকে সমর্থন জানায়। যার ফলশ্রুতিতে রাজ্যপাল টিভিকে প্রধান বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।