আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'বিয়ের আগে কাউকে বিশ্বাস করবেন না', উক্তি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্নর। শীর্ষ আদালতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একজনের যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণ মামলার শুনানি ছিল। সোমবার শুনানি ছিল সেই মামলারই। জানা গেছে, দু'পক্ষের বাদানুবাদের সময় এ দিন ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিচারপরি নাগরত্ন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোমবার বিচারপতি নাগরত্নের বেঞ্চে এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল। অভিযোগকারী ১৮ বছর বয়সি এক যুবতী। সম্প্রতি স্বামীকে হারিয়ে সম্পর্কে জড়ান এক যুবকের সঙ্গে। শুরু করেন একত্রবাস। মহিলার দাবি, ওই যুবক তাঁকে প্রথমে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই শর্তেই শুরু হয় সহবাস। শারীরিক সম্পর্ক লিপ্ত হলেও শেষমেশ তাঁকে বিয়ে করতে সম্মত হননি ওই যুবক। তারপরই আদালতের দ্বারস্থ হন ওই যুবতী। শুনানি চলাকালীন পক্ষে-বিপক্ষের মতামত শুনে কার্যত ওই যুবতীকেই দুষেছেন বিচারপতি। মামলাকারীর আইনজীবীকে তিনি বলেছেন, "বিয়ের আগে একত্রবাস করার প্রয়োজন কী। বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর একে অপরের বিরুদ্ধে এরকম গুরুতর অভিযোগ আনেন"। পাশাপাশি এ-ও বলেন, "যদিও এরকম কথা শুনে কেউ সবাই অভিযোগ করেন নির্যাতিতাকেই দোষী সাব্যস্ত করছে আদালত। সেটা কি সঠিক?"
নির্যাতিতার আইনজীবী জানান, যুবতী জানতেন না ওই যুবক বিবাহিত। এ ছাড়াও একাধিক সম্পর্কও রয়েছে তাঁর। তা সত্ত্বেও ওই যুবতীর সঙ্গে একত্রবাস করেছেন। এমনকি তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে নাগরত্নের পর্যবেক্ষণ, "সম্মতিপূর্বক কোনও সম্পর্ক স্থাপনের পর সন্তান থাকলেও যদি সেই সম্পর্ক ছেড়ে কেউ বেরিয়ে যেতে চান, সেটিকে ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা যায় না।" তবে যুবতী চাইলে ওই যুবকের থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতেই বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাসের এক ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু হয় সুপ্রিম কোর্টে। অভিযোগকারীনী ওই যুবকের সঙ্গে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চে ওই মামলা শুনানির হয়। কেন ওই যুবতী যুবকের সঙ্গে দুবাইয়ে যান, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, পারস্পরিক সম্মতিতেই সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘‘আমাদের হয়তো সেকেলে মনে হতে পারে। কিন্তু বিয়ের আগে পর্যন্ত এক জন ছেলে এবং এক জন মেয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত।”
















