আজকাল ওয়েবডেস্ক: শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি। এই শান্তি চুক্তির প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে। দেশেও সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে শুরু করে পেট্রোল পাম্প, বিমানবন্দর- এমনকি প্রতি মাসের লোনের ইএমআই-তেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।

 

চুক্তিটি মোট পাঁচটি প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে:

১। হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা

২। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো

৩। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা

৪। নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করা

৫। একটি স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা।

 

কী ভাবে এই চুক্তি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আনতে পারে?

 

১। পেট্রোল ও ডিজেলের দামে ছাড়: এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন ভারতীয় গাড়িচালকেরা। কারণ তাঁরা প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করেন। যার একটি বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের জেরে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। চুক্তির স্বাক্ষরিত হলে তেলের দাম ফের কমবে। এর ফলে ভারতীয় গ্রাহকেরা পেট্রোল ও ডিজেলের ঘন ঘন দাম বৃদ্ধির হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।

 

২। সস্তা হতে পারে বিমানের টিকিট: বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যয়ের একটি বড় অংশই যায় জ্বালানির পিছনে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে স্বাভাবিকভাবেই এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির খরচ কমে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলি টিকিটের দাম কমাতে বা বিভিন্ন ছাড় দিতে পারে। ভারতের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ দেশে বিমানযাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ ছাড়া প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভারতীয় উপসাগরীয় দেশগুলিতে যাতায়াত করেন। ইউরোপের আন্তর্জাতিক রুটগুলিতেও এই অঞ্চলের আকাশপথ ব্যবহার করা হয়। চুক্তি কার্যকর হলে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক—উভয় পথেই বিমানভাড়া মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে আসতে পারে।

 

৩. স্বস্তি মিলতে পারে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে: কেবল পেট্রোল-ডিজেলের দামই নয়। শাকসবজি ও ফলমূল বহনকারী ট্রাক, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি, কোল্ড স্টোরেজ লজিস্টিকস এবং আন্তঃরাজ্য খাদ্য পরিবহনে প্রচুর ডিজেল ব্যবহৃত হয়, সে ক্ষেত্রেও স্বস্তি মিলবে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের কারণে কৃষিকাজের সারের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। কারণ বিশ্বে ইউরিয়া রপ্তানির একটি বড় অংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। ফলে, দেশের যে সমস্ত পরিবার ইতিমধ্যেই চড়া দামে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছিলেন, পরিবহন ও উৎপাদন খরচ সামান্য কমলেও তা বড় স্বস্তি এনে দেবে।

 

৪. রান্নার গ্যাস ও গৃহস্থালির জ্বালানি খরচ: জ্বালানির জন্য ভারত এখনও আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী খুলে গেলে এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার থেকেও চাপ কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবিত চুক্তির ফলে জাহাজ ভাড়া এবং বিমা প্রিমিয়াম কমে যাবে, যা সংঘাতের সময় আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল। আমদানি খরচ কমলে সরকারের পক্ষে এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখা, ভর্তুকির বোঝা কমানো এবং গৃহস্থালির জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব হবে।

 

৫। মূল্যস্ফীতি কমলে সস্তা হবে ঋণ: জ্বালানির দাম অর্থনীতির প্রতিটি খাতকে প্রভাবিত করে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন এবং খাদ্যের খরচ বাড়ে। উল্টোদিকে, তেলের দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতি স্বাভাবিকভাবেই কমবে। এটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-কে সুদের হার কম রাখতে সাহায্য করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের গৃহ ঋণ বা গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে ইএমআই কমে যাবে। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ঋণ নেওয়া আরও সহজ হবে।