আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য রুটের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখবে।
'এক্স' বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল এবং বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, "পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল এবং অনেক দেশে প্রাণহানির কারণ হয়েছিল।"
তিনি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথকে প্রভাবিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "ভারত আশা করে যে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নের ফলে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং অবাধ নৌ-চলাচল ও বাণিজ্য নিশ্চিত হবে।"
প্রধানমন্ত্রী আরও আশাবাদী যে, অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এক্স বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী যোগ করেন, "আমরা আশা করছি যে, অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যখন তাদের মধ্যকার সংঘাতের অবসান এবং বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা করেন, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে এল।
যদিও এই চুক্তিটি এখনও একটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অগ্রগতি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে এই অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে।" আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি জানানোর পরপরই এই ঘোষণাটি করা হয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যদিও এই ব্যবস্থার অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, তবে শরিফ জানিয়েছেন যে, চুক্তিতে "লেবানন-সহ সব রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার" আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আরও জানিয়েছে যে, সোমবার রাত থেকে লেবানন-সহ সব সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-সহ আরও বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এখনও অমীমাংসিত প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় উভয় পক্ষই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই খবরে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। লেনদেনের শুরুর দিকে তেলের দাম কমেছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এই সংঘাত জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল।















