আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার দিল্লিতে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন সকলে। বর্ষীয়ান মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস এবং প্রয়াত কল্পনা চাওলার ৯০ বছর বয়সি মা সংযোগিতা দেবীর সাক্ষাতে যেন পুরনো স্মৃতি নতুন করে তাজা হয়ে উঠল। ছিল উষ্ণ আলিঙ্গন আর হারানো দিনের নস্টালজিয়া।
২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘কলম্বিয়া’ মহাকাশযান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন কল্পনা চাওলাসহ সাত জন মহাকাশচারী। ভারতের প্রথম মহিলা মহাকাশচারী হিসেবে তাঁর সেই মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকাতুর হয়ে পড়েছিল।
মঙ্গলবার আমেরিকান সেন্টারে ‘আইজ অন দ্য স্টার্স, ফিট অন দ্য গ্রাউন্ড’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ৬০ বছর বয়সি সুনিতা। নীলরঙা স্পেস স্যুট আর মহাকাশ-থিমযুক্ত জুতোয় সজ্জিত সুনিতা অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চ থেকে নেমে সোজা এগিয়ে যান প্রথম সারিতে বসা সংযোগিতা দেবীর দিকে। তাঁকে জড়িয়ে ধরেন পরম মমতায়। এই সাক্ষাৎ যেন উপস্থিত সকলকে মুহূর্তে নস্টালজিক করে তুলল। বিচ্ছেদের আগে সুনিতা কথা দেন, এ ভাবেই তাঁরা একে অপরের পাশে থাকবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কল্পনার দিদি দীপাও।
সুনিতা এখন ভারত সফরে রয়েছেন। ২২ জানুয়ারি থেকে কেরল লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপ্টেন সুনিতার শিকড় কিন্তু ভারতেই। তাঁর বাবা দীপক পাণ্ড্য ছিলেন গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা। এ দিন সুনিতা বলেন, “ভারতে আসা আমার কাছে ঘরে ফেরার মতোই, কারণ এটাই আমার বাবার জন্মভূমি।”
কল্পনার মা পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সুনিতা তাঁদের কাছে পরিবারেরই একজন। ২০০৩-এর সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন মাস প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের বাড়িতে থেকে শোকাতুর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন সুনিতা। কল্পনা ও সুনিতা- দুই মহাকাশচারী একে অপরকে পেশাগত জীবনেও দারুণ উৎসাহ দিতেন।
মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গর্বিত মা বলেন, “কল্পনা বলত, মানবতাই আসল ধর্ম। ওকে ওর ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করলে ও উত্তর দিত- কাজই আমার ধর্ম।”
