নিতাই দে, আগরতলা: কোনও নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হলেও একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব সমগ্র রাজ্য ও জনগণের প্রতি নিবেদিত। উন্নয়নের সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করাও তাঁদের গুরুদায়িত্ব। বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে “সকল শ্রেণির জনগণের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা” শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালার উদ্বোধন করে এই  কথা বলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। তিনি বলেন, আমাদের দেশের সংবিধান কেবল একটি আইনি দলিল নয়, এটি ন্যায়, সমতা ও স্বাধীনতার পথপ্রদর্শক। 

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা: মানিক সাহা বলেন, জনগণের সম্মান রক্ষা, ব্যক্তিগত আচরণে শালীনতা, সমস্যায় মানুষের পাশে থাকা এবং কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ জবাবদিহিতা—এই চারটি গুণেই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়। জবাবদিহিতাই গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি আরও বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই মর্যাদা অটুট রাখা এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থেকে সমস্যার দ্রুত সমাধান করাই প্রকৃত জনসেবা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং বলেন, Commonwealth Parliamentary Association (সিপিএ) ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা সংসদীয় গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই সংস্থার লক্ষ্য। তিনি ত্রিপুরার ১৯টি জনজাতি সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ ত্রিপুরার উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে।

ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, “জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সবাই মিলে রূপায়ণ করলে প্রকৃত অর্থে জনগণের উপকার হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।বিধানসভার মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায় বলেন জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।”

কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, আজকের এই সেমিনার বর্তমান সময়ের খুবই প্রাসঙ্গিক। গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধী দলের বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংসদ কৃতী দেবী সিং দেববর্মা সাংসদ পরিমল শুরু বৈদ্য, সহ বিভিন্ন জন প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর বার্তা পাঠ করেন বিধায়ক সুদীপ সরকার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন আমরা হতে পারি কোন দলের একজন ব্যক্তি। যখন আমরা নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হই তখন কিন্তু আমার দায়িত্ব আমার জবাবদিহি কোন দলের হিসেবে থাকে না। তখন আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমার এলাকার সমস্ত জনগণের দায়িত্ব আমার কাছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কিরকম দায়-দায়িত্ব থাকা উচিত এবং সেখানে কি আমি ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক রঙ দিয়ে আমি দায়িত্ব পালন করব  অবশ্যই না। সেই দিকটা যাতে আমাদের সকল জন্ প্রতিনিধিদের মধ্যে ফুটে ওঠে সেই রাস্তায় আমরা যেন চলাফেরা করি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে, সেই লক্ষ্য রেখে আমরা যাতে জনগণের সেবা করি এই পরিপ্রেক্ষিতে আজকের এই সেমিনার। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, টি.টি.এ.এ.ডি.সি.-র সিইএম ও সদস্য-সদস্যা, পুরনিগমের কর্পোরেটর এবং পঞ্চায়েত ও ব্লকস্তরের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা অভিমত ব্যক্ত করেন, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তি সুদৃঢ় হলেই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী ও জনমুখী হয়ে উঠবে।