শয়ে শয়ে পথকুকুরের মৃত্যু, ধরে ধরে প্রাণঘাতী ইনজেকশ দেওয়া হচ্ছে তেলেঙ্গানায়! বিরাট অভিযোগ

তেলেঙ্গানায় পথকুকুরদের প্রাণঘাতী ইনজেকশন? ছবি: সংগৃহীত।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৩ জানুয়ারি জানা যায়, পথকুকুর সংক্রান্ত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান সম্পর্কে। রাজ্যগুলিকে বিপুল জরিমানার হুঁশিয়ারি দেয় শীর্ষ আদালত। জানানো হয়,  পথ-কুকুরের কামড়ে মানুষের ক্ষতি বা মৃত্যু হলে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহেতা ও এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ একথা জানায়। 

ঠিক তার কয়েকদিনের মাথায় পথকুকুর সংক্রান্ত আরও একটি বড় তথ্য সামনে উঠে এসেছে। অভিযোগ ভয়াবহ। অভিযোগ, তেলেঙ্গানায় পথকুকুরদের প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, ক্যামেরার সামনে ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লিখিত, হানামকোন্ডা এবং কামারেড্ডি জেলা জুড়ে সাতজন গ্রামপ্রধান-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে পুলিশ। নতুন বছরের প্রথম দু'সপ্তাহে কমপক্ষে ৫০০ কুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই জোরদার হয় তদন্ত। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়, বেশ কয়েকজন প্রার্থী পথ কুকুরের আক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বিরক্ত বাসিন্দাদের "কুকুরমুক্ত গ্রাম" করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ত্রাপর থেকেই ইনজেকশন প্রয়োগের বিষয়টি ঘটছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও ওই ভিডিও'র সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। 

 

গত বছরের ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং রেলওয়ে স্টেশন থেকে পথ-কুকুর অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। একই সঙ্গে বেঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় যে, কুকুরগুলিকে সরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। আরও বলা হয়েছে যে কুকুরগুলিকে যেখান থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, জীবাণুমুক্তকরণ এবং টিকাদানের পর সেই জায়গায় আবার ছেড়ে দেওয়া হবে না।

পথ-কুকুর মামলা
গত বছরের জুলাই মাসে, সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছিল যে, দিল্লি এবং সংলগ্ন অঞ্চলের সমস্ত বেওয়ারিশ কুকুরকে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করতে হবে। কুকুরের কামড়ের ফলে জলাতঙ্ক রোগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের মতে, কুকুর আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে এমন পেশাদার থাকতে হবে যারা কুকুরদের মোকাবিলা করতে, জীবাণুমুক্তকরণ এবং টিকাদান করতে পারেন। সেই সঙ্গেই যাতে কুকুরগুলো বাইরে যেতে না পারে সেটাও দেখতে হবে।

 

আরেকটি শুনানিতে, এটি নির্দেশ দেয় যে জীবাণুমুক্তকরণ এবং টিকাদানের পরে প্রাণীগুলিকে একই এলাকায় আবার ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে, বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহেতা এবং এনভি আঞ্জারিয়ার তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে- জলাতঙ্কে আক্রান্ত বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা কুকুর এবং আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শনকারী কুকুরের ক্ষেত্রে এই স্থানান্তর প্রযোজ্য হবে না।