সমীর ধর: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জের ত্রিপুরায়। রাজ্যজুড়ে পেট্রোল ডিজেল আর সিএনজি-র লম্বা লাইনে আতঙ্কিত মানুষ। আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে শুনে ভারতে জ্বালানি তেলের সংকট যে অনিবার্য, তা একরকম ধরেই নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে আতঙ্কিত-ক্রয়ের লাইন লেগেছে তেলের পাম্পগুলোতে। আগরতলার প্রতিটি পাম্পের সামনে আজ ভোর থেকেই বাইক-স্কুটারের সারি।
অনেকেই ১০-২০ লিটারের ড্রামে অতিরিক্ত পেট্রোল নিচ্ছেন। সোনামুড়া, বিশালগড়-সহ বিভিন্ন মহকুমায় এ নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা। হস্তক্ষেপ করতে হয় প্রশাসন ও পুলিশকে। সেই সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো শুরু হয়ে গিয়েছে দেদার কালোবাজারি। অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন সরকারও। খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরি আজ দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যে আপাতত পেট্রোল ডিজেল এলপিজি-র কোনও সংকট নেই। এক মাসের মজুত আছে। ইন্ডিয়ান অয়েলের কর্মকর্তা, পেট্রোল পাম্প অপারেটরদের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানান তিনি। রাজ্যবাসীকে আতঙ্কিত না হতে তাঁর আবেদন।

প্রসঙ্গত, ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অন্তত ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে কৌশলগত মজুত ও বাণিজ্যিক তেল মিলিয়ে আর প্রায় ২৫ দিন পর্যন্ত জ্বালানি চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে পেট্রোল–ডিজেলের দাম বিপুল হারে বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভারতের হাতে আর মাত্র ২৫ দিনের মতো অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। বিকল্প উৎসের সন্ধান চলছে।’ যদিও সরকারি সূত্রে খবর, পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা এখনই নেই।
এটা ঘটনা, স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের ড্রোন হামলার জেরেই এই ধ্বংসযজ্ঞ। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই তৈল ভাণ্ডারে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস তানুরা রিফাইনারিটি। যেটি পরিচালনা করে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা সৌদি আরামকো। পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই রিফাইনারিটি প্রতিদিন মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির মূল ভরকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সেই রিফাইনারির গায়ে আগুনে পোড়া দাগের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে করা আঘাতের চিহ্ন ও অবকাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশও ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট ছবিতে।
ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা রপ্তানির ওপর প্রভাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
