আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ডামাডোল। এর মধ্যেই ভারতের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল রাশিয়া। এক সাক্ষাৎকারে রুশ সূত্রের দাবি, জ্বালানি সরবরাহে কোনও টান পড়লে ভারতকে সাহায্য করতে প্রস্তুত মস্কো।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। পালটা হিসেবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে পা রাখল এই সংঘাত। এই ভয়াবহ আবহে ওই অঞ্চলে থাকা প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ভারতীয় অর্থনীতি বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ইরান ইতিমধ্যেই অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, বিশ্বের মোট খনিজ তেলের ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।
ভারতের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “আমাদের বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের পথ এই এলাকার ওপর দিয়েই গিয়েছে। তাই এখানে বড় কোনও সমস্যা তৈরি হওয়া মানে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য তা বিপদঘণ্টি।”
প্রসঙ্গত, ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অন্তত ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে কৌশলগত মজুত ও বাণিজ্যিক তেল মিলিয়ে আর প্রায় ২৫ দিন পর্যন্ত জ্বালানি চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে পেট্রোল–ডিজেলের দাম বিপুল হারে বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভারতের হাতে আর মাত্র ২৫ দিনের মতো অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। বিকল্প উৎসের সন্ধান চলছে।’ যদিও সরকারি সূত্রে খবর, পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা এখনই নেই।
এটা ঘটনা, স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের ড্রোন হামলার জেরেই এই ধ্বংসযজ্ঞ। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই তৈল ভাণ্ডারে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস তানুরা রিফাইনারিটি। যেটি পরিচালনা করে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা সৌদি আরামকো। পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই রিফাইনারিটি প্রতিদিন মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির মূল ভরকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সেই রিফাইনারির গায়ে আগুনে পোড়া দাগের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে করা আঘাতের চিহ্ন ও অবকাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশও ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট ছবিতে।
ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা রপ্তানির ওপর প্রভাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
