আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জড়িয়েছে একাধিক দেশ। চলছে হামলা। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
এই পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। তারপরেই জানা গেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে কথা বলেছেন কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, হিজ হাইনেস শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেল থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে দু'জনের। ভারত কুয়েতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের নিন্দা করেছে এবং এই কঠিন সময়ে তাঁর জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে।
সঙ্গেই জানানো হয়েছে, 'আমরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সংলাপ এবং কূটনীতির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছি। কুয়েতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কুয়েতি নেতৃত্বের সমর্থনের প্রশংসা করেছি।'
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, গত ৪৮ ঘণ্টায় আট রাষ্ট্রপ্রধান, নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তালিকায়-
১. সংযুক্ত আরব আমিরাত
২. ইসরায়েল
৩. সৌদি আরব
৪. জর্ডান
৫. বাহরাইন
৬. ওমান
৭. কুয়েত
৮. কাতার।
এর আগে, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের বদেশ মন্ত্রক। একদিকে পরিস্থিতি নিয়ে ফুঁসে উঠে ভারত জানিয়ে দিল বাণিজ্যতরীতে হামলায় সমর্থন নেই, তেমনই বার্তা দিল, বার্তা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও।
মঙ্গলবার বিবৃতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রক পয়েন্ট ধরে বেশকিছু বিষয় স্পষ্ট করেছে। তার আগে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির একেবারে শুরু থেকেই, ভারত সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে ক্রমে।
বিদেশমন্ত্রক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, কেবল সংঘাতের তীব্রতাই বাড়েনি বরং অন্যান্য দেশেও এর বিস্তার লক্ষ্য করেছি। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংস এবং মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত জানাচ্ছে, 'এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সঙ্গে থাকা নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে, এই ঘটনাগুলি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ।'
ওই উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বাস করেন এবং কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় দেশের কাছে, বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে সেই বিষয়টিও। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কোন জায়গায় দাঁড় করাবে, স্পষ্ট বার্তা এবং অবস্থান ভারতের তা নিয়েও। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলও এই ভূগোল জুড়ে। যেকোনও বড় ধরনের ব্যাঘাত ভারতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনোট পারে। ভারতীয়রা বিশ্বব্যাপী কর্মরত। ভারত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর আক্রমণেরও দৃঢ় বিরোধিতা করে। ইতিমধ্যেই, গত কয়েকদিনে এই ধরনের আক্রমণের ফলে কিছু ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।'
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানাচ্ছে, 'আমরা সংঘাতের দ্রুত অবসানের পক্ষে স্পষ্টভাবে আমাদের অবস্থান জানাচ্ছি। ইতিমধ্যেই, অনেক প্রাণহানির জন্য দুঃখজনকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং আমরা এই বিষয়ে আমাদের শোক প্রকাশ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলি ভারতীয় নাগরিক এবং সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে, যথাযথভাবে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছে। তারা সংঘাতে আটকা পড়াদের জন্য সম্ভাব্য সকল সহায়তাও প্রদান করেছে। দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলি এই সংঘাতের বিভিন্ন কনস্যুলার দিক মোকাবেলায় সক্রিয় থাকবে।আমরা এই অঞ্চলের সরকার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।' সঙ্গেই জানানো হয়েছে, 'সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখবে এবং জাতীয় স্বার্থে প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত নেবে।'
