পুনের বহুলচর্চিত লোহাগড় ফোর্ট ‘খুন’কাণ্ডে সামনে এল নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেতন হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে আরও অজানা তথ্য। এতে দাবি করা হয়েছে যে, সিয়া ও চেতনের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন রোহিনী। তিনি সিয়ার বান্ধবী ছিলেন। এদিকে, চেতনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্কও নাকি ছিল; এছাড়া এই তিনজন মিলে কেতনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

জানা যাচ্ছে, চেতন আর্থিক লাভের আশায় সিয়াকে লুকিয়ে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই সময় রোহিনী ২০ লাখ ও ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব দাবি নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও এগুলোর সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি এবং আদালতে তা প্রমাণিতও হয়নি। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং এখনও এই বিষয়ে কোনও তথ্য নিশ্চিত করেনি আদালত।

এর আগে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছিল, বাগদত্ত কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে আংটি বদলের পরই নাকি প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল! সিয়ার সঙ্গে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের বিয়ে ঠিক হয়েছিল চলতি বছরের নভেম্বরে। কিন্তু ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ের খাঁদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। পুলিশের অভিযোগ, বিয়ে করতে না চাওয়ায় আগেই গোটা হত্যার ছক কষেছিলেন সিয়া।

এবার তদন্তে উঠে এসেছে আরও বড় দাবি। সূত্রের খবর, প্রায় চার মাস আগে স্থানীয় এক রেজিস্ট্রার অফিসে প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন সিয়া। সেই দাবি খতিয়ে দেখতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট-এর অধীনে কোনও বিবাহের শংসাপত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে পুনে গ্রামীণ পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সেই গোপন বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে সই করেছিলেন বলে অভিযোগ সিয়ার কলেজের দুই বন্ধু। তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।এতেই শেষ নয়। তদন্তকারীরা এখন সিয়ার একটি ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে ফেলা ছবিগুলি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। দাবি, সেই ছবিগুলিতে সিয়া ও চেতনকে বিয়ের মালা পরে দেখা গিয়েছিল।

তদন্তকারীদের অনুমান, উদয়পুরে গন্তব্য-বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পরই তড়িঘড়ি পরিকল্পনা বদলানো হয়। কেতনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য সিয়ার নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল। এরপরই নাকি হত্যার ছক দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে সিয়া এবং চেতন চৌধুরী—দু'জনেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।