স্পেন - ২ (রুইজ, মেরিনো)
বেলজিয়াম - ১ (ডি কেটেলারে)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করেছিলেন। এদিন বেলজিয়ামের ঘাতক মিকেল মেরিনো। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে 'সুপার সাব' এর গোলে বিশ্বকাপের শেষ চারে স্পেন। ৮৬ মিনিটে ড্যানি ওলমোর পরিবর্তে নামেন। মাত্র দু'মিনিটের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিলেন। নিকো উইলিয়ামসের শট বাঁচান বেলজিয়ামের গোলকিপার। কিন্তু ফিরতি শটে গোল মেরিনোর। তারপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে বিশেষ সেলিব্রেশন। পর্তুগাল ম্যাচে ৯১ মিনিটে তাঁর করা একমাত্র গোলে শেষ আটের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছিল স্পেন। চোখের জলে বিদায় নেন রোনাল্ডো। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে দলকে সেমিফাইনালে তুললেন। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ চারে স্পেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবার শেষ চারে যায় স্প্যানিয়ার্ডরা। সেবার আন্দ্রে ইনিয়েস্তার গোলে নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। তবে এবার ফাইনালের পথে লামিন ইয়ামালদের কাঁটা কিলিয়ান এমবাপেরা। এদিন ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয় বেলজিয়ামের প্রধান গোলকিপার কুর্তুয়ার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া। ৭১ মিনিটের সেই মুহূর্তই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। মাঠ ছাড়ায় আগে অন্তত তিন থেকে চারটি নিশ্চিত গোল বাঁচান স্পেনের গোলকিপার। মেরিনো জয়সূচক গোল করলেও, ম্যাচের রিং মাস্টার ইয়ামাল। তাঁকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশদের যাবতীয় আক্রমণ তৈরি হয়। ১৮ বছরের তারকার স্কোরশিটে নাম না তুলতে পারা দুর্ভাগ্যের।
প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল স্পেনের। কিন্তু সেই ফাইনাল থার্ডে ব্যর্থতা। বিরতির আগে গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ২০১০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যায় স্পেন। এদিন পর্তুগাল ম্যাচের দলে একটি পরিবর্তন করেন কোচ ফুয়েন্তে । পেড্রির জায়গায় শুরু করেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। অন্যদিকে কেভিন ডি ব্রুইন এবং জেরেমি ডোকুকে প্রথম একাদশে ফেরান বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল রেড ডেভিলসরা। এদিন তৃতীয়বার বিশ্বকাপের শেষ চারে যাওয়ার হাতছানি ছিল বেলজিয়ামের সামনে। দুই দলই ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজায়। সামনে ওয়ারজাবালকে রেখে শুরু করেন ফুয়েন্তে। বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডে ছিলেন চার্লস ডি কেটেলারে।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই পজেশনাল প্রেসিং ফুটবল স্পেনের। কিন্তু প্রথম আধ ঘণ্টা কোনও দলই পজিটিভ সুযোগ পায়নি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। ডানদিকে লামিন ইয়ামালের পা থেকে আক্রমণ শুরু হয়। বল বাড়ান পেড্রো পোরোকে। বক্সের মধ্যে ক্রস রাখেন। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ওলমোর শট বাঁচান কুর্তুয়া। ফিরতি বল গোলে রাখেন রুইজ। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবধান বাড়াতে পারত স্পেন। বক্সের ঠিক মুখে ইয়ামালকে ফাউল করে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার। ভাল জায়গায় ফ্রিকিক পায় স্পেন। ইয়ামালের ফ্রিকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান বেলজিয়ামের গোলকিপার। গোলের পর মুহুর্মুহু আক্রমণ স্প্যানিশ আর্মাডার। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ পায় স্পেন। কিন্তু ইয়ামলের শট সাইড নেটে লাগে।
খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। প্রথম পজিটিভ শটেই গোল। ম্যাচের ৪১ মিনিটে ১-১ করেন ডি কেটেলারে। ডানদিক থেকে ক্যাসট্যাগনের ক্রসে উড়ন্ত হেড বেলজিয়ামের স্ট্রাইকারের। দুর্দান্ত গোল। নড়তে পারেননি স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন। দুই ম্যাচে তিন গোল ডি কেটেলারের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে প্রথম গোল হজম স্পেনের। ছয় ম্যাচ পর গোল খায় ইয়ামালরা। বিরতিতে স্কোরলাইন ১-১ ছিল।
ইয়ামাল যেকটা সুযোগ তৈরি করেন, অনায়াসেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। কিন্তু গোলের নিচে অনবদ্য বেলজিয়ান গোলকিপার। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফেরান টোরেসের ক্রস থেকে ইয়ামালের হেড বাঁচায় কুর্তুয়া। ম্যাচের ৬১ মিনিটে আবার ইয়ামালের বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট বাঁচান বেলজিয়ান কিপার। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রোখেন। গোলের নিচে নিজের অভিজ্ঞতার পূর্ণ ফায়দা তোলেন। দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের একাধিক আক্রমণে ঢাল হয়ে দাঁড়ান কুর্তুয়া। ওয়ারজাবালের ওয়ান টু ওয়ান শট বাঁচান। কিন্তু এই শট বাঁচাতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান বেলজিয়ামের কিপার। ম্যাচের ৭১ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় নামেন পরিবর্ত গোলকিপার সেন্নি লামেনস। ম্যাচে আগাগোড়া আধিপত্য ছিল স্পেনের। আক্রমণও অনেক বেশি। মাঝেমধ্যে নিজের গতি দিয়ে স্পেনের রক্ষণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার চেষ্টা করেন ডোকু। কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। শেষ মিনিটে আবার 'সুবার সাব' এর ভূমিকায় অবতীর্ণ মেরিনোর।















