আজকাল ওয়েবডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। তীব্র তাপপ্রবাহের কোপ পড়তে পারে বিশ্ব তথা ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনে। যার ফলে সাধারণ মানুষের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সর্বভারতীয় সংবাদমধ্যমে 'অ্যাডেলফি গ্লোবাল' নামক এক বিদেশি সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে তেমনই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে।

 

রিপোর্ট অনুযায়ী, তীব্র গরমের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের কৃষি ও নির্মাণ ক্ষেত্রের শ্রমিকদের উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাঁরা বছরে গড়ে প্রায় ২২.৫ কর্মদিবসের সমপরিমাণ আয় হারাতে পারেন। 'হিট, হেলথ অ্যান্ড ইনক্রিজিং কস্ট অফ লিভিং' শীর্ষক এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গরমের কারণে শ্রমিকদের ক্রমশ কাজের গতি কমছে। এমনকি কখনও কখনও কাজও বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাঁদের। এর ফলেই কমছে দৈনন্দিন আয়। অন্যদিকে, তীব্র গরমে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা বাবদ খরচও বাড়ছে। পকেট থেকে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। জোড়া সমস্যায় বিদ্ধ হয়ে বহু মানুষ ক্রমশ দারিদ্র্যের মুখে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

 

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই গরমের দাপটে দেশে কাজের সময় নষ্ট হওয়ায় সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার। যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। এই সমস্যায় সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন ভারতের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকেরা। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ নারী এবং ৮৬% পুরুষ। পেইড লিভ বা স্বাস্থ্যবিমা না থাকাতেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে।

 

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, পরিবারের কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে শহরের ৪০ শতাংশ এবং গ্রামের ৬০ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এঁদের মধ্যে কাউকে বিক্রি করতে হচ্ছে সম্পত্তিও।

 

'অ্যাডেলফি গ্লোবাল'-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডেনিস ট্যানজলার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে। তাদের কেবল পরিকল্পনা করলেই চলবে না, দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপও করতে হবে। এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তেমনি সরকারি বিমা চালু করা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার সুপারিশও করা হয়েছে।